Google থেকে টাকা ইনকাম করার 10টি উপায়

Google থেকে টাকা ইনকাম।

গুগল থেকে টাকা আয় করার ১০টি ওয়েবসাইটঃ অনলাইন বিশ্ব বর্তমানে এত বেশি শক্তিশালী হয়েছে যে, পুরো বিশ্বের নিয়ন্ত্রণভার অনলাইনে সীমাবদ্ধ রাখা সম্ভব।

google থেকে টাকা ইনকাম

সেই অনলাইন বিশ্বের অন্যতম শাসক হলো Google, তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। গুগোল পুরো অনলাইন বিশ্বে শাসন করে বেড়াবে এটাই স্বাভাবিক। 


গুগল থেকে টাকা আয় করার উপায় গুলো সম্বন্ধেঃ

Google অনলাইনে এমন অসংখ্য উপায় রেখে দিয়েছে, যার মাধ্যমে নিমিষেই উপার্জন করে নেয়া সম্ভব। মানুষ দৈনন্দিন জীবনে বিভিন্ন বিষয়ের জন্য গুগলের উপর নির্ভরশীল। 

তবে, সকলের মধ্যে একটি প্রশ্ন সবসময় থাকে। প্রশ্নটি হলো এই যে, গুগল থেকে টাকা ইনকাম করার উপায় কি? যদি আপনি হন তাদের মধ্যেই একজন, যে গুগোলে একটি ছোটখাটো জব করতে চায়। 

তাহলে আজকের ব্লগটি আপনার জন্য। গুগলের অফিশিয়াল কোন জব নয়, বরং গুগলের বিভিন্ন প্রোডাক্ট ব্যবহার করে গুগল থেকে টাকা ইনকামকরে নেয়ার উপায়সমূহ আমি বলব।

আমি এতটুকু মনে করছি যে, আপনি ওই সকল লোক জনের মধ্যেই একজন। যারা গুগোল থেকে আয় করার উপায় জানতে চাইছে। যারা গুগলে উপার্জন করা নিয়ে বেশ ইন্টারেস্টেড। 

গুগোলের বিভিন্ন প্রোডাক্ট; যেমনঃYouTube,  Adsense, Opinion Rewards কিংবা Google Play ব্যবহার করে অনেকেই উপার্জন করছে। বাংলাদেশে গুগল থেকে টাকা আয় করা লোকেদের সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। এমনকি আমিও গুগলেরই প্রোডাক্ট Adsense থেকে আয় করছি।

গুগলের বিভিন্ন এপ্লিকেশন কিংবা ওয়েবসাইটে নিজস্ব সময় ব্যয় করুন। আর সে সময় গুলোকে টাকাতে কনভার্ট করুন। এভাবে আপনি নিজের প্রফেশন তৈরি করতে পারবেন।

এখন পর্যন্ত যত জায়ান্ট টেক অথবা বড় ব্র্যান্ড আছে। সকলেই অনলাইনে উপার্জন করার জন্য সুযোগ দেয়। যেমনঃ Amazon, Swagbucks, Yahoo, Facebook ইত্যাদি। সে দিক থেকে Google যে পিছিয়ে থাকবে, তা তো আর হতে পারে না। গুগল অন্যান্যদের থেকে অনলাইনে উপার্জন করার চান্স আরো বেশি প্রদান করে।


কিভাবে গুগল থেকে আয় করব?

কিভাবে আমরা অনলাইনে গুগল থেকে টাকা ইনকাম করতে পারি?

১. Google Adsense। এড দেখে ইনকাম করার সর্বোত্তম উপায়।

২. YouTube: ইউটিউব ভিডিও তৈরি করে নিমিষেই হাজার হাজার ডলার উপার্জন।

৩. Blogger/ Blogspot: ব্লগিং করার একমাত্র ফ্রি প্লাটফর্ম।

৪.Google Ads (AdWords)

৫. Google Play: Paid অ্যাপ বিক্রি করে মুনাফা উপার্জন।

৬. Google Keyword Planner

৭. Search Engine Evaluation, SEO.

৮.Google Opinion Rewards: সার্ভে পূরণ করার বিশ্বস্ত প্ল্যাটফর্ম

৯. Google Pay

১০. Google ম্যাপ।


Google থেকে টাকা আয় করার সেরা ১০টি ওয়েবসাইটের তালিকাঃ

একটু আগে সংক্ষিপ্ত বিবরণে উপায়গুলো বলে দিলাম। উপরোস্থ যেসমস্ত উপায়গুলো বললাম, এগুলো একেকটি গুগলের অনলাইন জব। যেমন গুগল এড পাবলিশ করাকে একটা জব বললে ভুল হবে না। এড পাব্লিস করা থেকে অনেকেই মাসে লক্ষ লক্ষ টাকা ইনকাম করছে।

এরকম আরো অনেক উপায় আছে, যেগুলো গুগোল থেকে আয় করার জন্য আপনাকে প্রস্তুত করবে। তার জন্য  শুধুমাত্র আমার দেখানো গুগল থেকে আয় করার উপযুক্ত উপায়টি খুজ নিতে হবে। সেটিতে আপনি নিজে মানানসই কিনা? সেটা বিচার করে নিতে হবে। পরবর্তীতে সেখানে উপার্জন করার চিন্তা-ভাবনা করতে পারেন।

যদি আপনি অনলাইনে গুগলের কোন একটি প্লাটফর্মে কাজ করতে চান। এবং ইনকাম করতে চান। তবে পুরো ব্লগটি পড়বেন আশা করি।


1. Google AdSense – এড পাব্লিস করে ইনকাম। 

যদি কোনো একটি ব্লগ লেখা হয় যে, “গুগোল থেকে কিভাবে টাকা ইনকাম করা যায়?” তবে উক্ত ব্লগে Google Adsense  না থাকলে  সম্পূর্ণ ব্লগটি অসম্পূর্ণ থেকে যায়। 

গুগল এডসেন্স গুগলের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। অনলাইন দুনিয়ার অনেকাংশই উপার্জন আসে এডসেন্সের মাধ্যমে। গুগল এডসেন্সের মাধ্যমে গুগল এড পাবলিশারদেরকে নিজের ওয়েবসাইট কিংবা ইউটিউব ভিডিওতে এড পাবলিশ করার জন্য বলে।

যদি একবার গুগল এডসেন্স ব্যবহারের ভালো রেভিনিউ অর্জন করা শুরু করেন। তবে ধীরে ধীরে সেটা আপনার ইনকাম সোর্স এ পরিণত হতে থাকবে।

গুগল এডসেন্স আসলে কি করে?

গুগল এডসেন্স ব্যাপারে অনেকেই হতবাক হয়ে যেতে পারেন। এটাই স্বাভাবিক। কারণ গুগোল এড ওয়েবসাইটে publishing হচ্ছে। সে পাব্লিস করা এড দেখিয়ে ওয়েব মাস্টাররা রেভিনিউ পাচ্ছে। আসলে হচ্ছেটা কি? 

গুগল এডওয়ার্ডে বিভিন্ন বড় বড় কোম্পানি ও Native কোম্পানি যে এড রান করানোর জন্য বলে, তা-ই আমাদের ওয়েবসাইটে পাব্লিস করা হয়। আর ঐসকল কোম্পানিরা আগে থেকেই এর জন্য গুগল এড ওয়ার্ডে টাকা ইনভেস্ট করেছে। এড পাব্লিস করাতে যে উপার্জন হয় তার ৩৫% বা এর অধিক গুগল নিজে নেয়। বাকীটা পাব্লিসাররা পায়।

প্রতিবছর গুগোল বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার পেমেন্ট করে গুগল এডসেন্সের মাধ্যমে। এমনকি গুগল এডস যদি আপনি নিজের ব্লগের স্পেইস বা খালি জায়গায় প্রদর্শন করান, সেখান থেকেও খুব ভালো রেটে ইনকাম করা যায়।

যেকোনো একটি ওয়েবসাইট আর্নিংয়ের অন্যতম অংশই আসে এডভার্টাইসিং থেকে।  আর এই এডভারটাইজিং পরিপূর্ণ করে গুগল এডসেন্স। ধরুন, আপনার সাইটটি পপুলার। বিভিন্ন Tourists Spot এর রিভিউ করে তৈরি করা। মানে হলো এটি একটি ট্রাভেলিং ব্লগে। এডসেন্স কিন্তু তখন অনেক চিন্তাভাবনা করে, এড প্রদর্শন করাবে অবশ্যই। 

গুগলের মাধ্যমে অনলাইনে অর্থ উপার্জন করার একটি দুর্দান্ত উপায় হলো গুগল এডসেন্স। গুগল এডসেন্স এর মাধ্যমে ইউটিউব চ্যানেল মনিটাইজেশন করানো যায়। আপনি যদি নিয়মিত ইউটিউবে ভিডিও আপলোড করতে থাকেন, তবে সেখানেও গুগল এডসেন্স একাউন্ট যোগ করতে পারবেন।

গুগল এডসেন্স একাউন্ট একটিভ করার জন্য আগে থেকে কিছু রিকোয়ারমেন্ট আছে। সেগুলো ফিলাপ করে নেয়া যায়। এবং গুগোল অ্যাডসেন্সে অ্যাপ্রভালও নিয়ে নেয়া যায়। গুগল এডসেন্সের মাধ্যমে ব্লগারে এপ্রুভাল পেতে তেমন কোনো রিকোয়ারমেন্ট নেই। শুধুমাত্র কিছু কন্ডিশন এমনকি পলিসি মেনে চললেই হলো। যেগুলো গুগোল অ্যাডসেন্সে পলিসি নামেই পরিচত। 

কিন্তু ইউটিউবে এডসেন্স মনিটাইজেশন পেতে আপনাকে কম করে হলেও 4000 ঘন্টা ওয়াচ টাইম অতিক্রম করতে হবে। এবং 1000 সাবস্ক্রাইবার অর্জন করে নিতে হবে। 

ব্লগ সাইটে শুধু মাত্র 10 থেকে 12 টি দুই হাজার ওয়ার্ডের কন্টেন্ট লিখে মোটামুটি মনিটাইজেশন পাওয়া যাবে। তা ছাড়াও একটি মানসম্মত ব্লগ সাইট তৈরি করতে হবে। আর কপিরাইট কন্টেন্ট ও ইমেজ ব্যবহার করা একদম নিষেধ।

বাংলা ব্লগ সাইটে গুগল এডসেন্স থেকে মোটামুটি প্রতি 1000 পেজভিউতে সর্বনিম্ন $3 থেকে সর্বোচ্চ $15 পর্যন্ত উপার্জন করা যায়। একইভাবে ইউটিউবে প্রতি 1000 ভিউতে সর্বনিম্ন $2 থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ $12 ডলার পর্যন্ত উপার্জন করে নেয়া যায়। 

আমার মতানুযায়ী, গুগল এডসেন্স থেকে ইনকাম করেছি প্রতি ৭০০ ভিউতে ৬ ডলার।  আমার ব্লগ সাইট সম্পূর্ন বাংলা। এডসেন্স মনিটাইজেশনে ইংরেজি ব্লগে প্রতি ১০০ পেজভিউতে $10-$50 সহজেই ইনকাম হয়।

এবার ধরুন, আপনার ব্লগ টি Wordpress.com সাইটে তৈরি করা। তো ওয়ার্ডপ্রেসে WordAds নামক ফিচার আছে। সেখানে ওয়ার্ডপ্রেস একাউন্টে চাইলে ওয়ার্ডএডস ব্যবহার করা সম্ভব। 

তাছাড়া যদি আপনি wordpress.org সাইটে ওয়েবসাইট তৈরি করেন। বা ব্লগ সাইট তৈরী করেন। তবে সেখানে আপনি গুগল অ্যাডসেন্স মনিটাইজ সহজেই পাবেন। এবং গুগল নিজেই সেখানে প্রেফার করে। এবং ভালো পরিমাণে উপার্জনও হয়।

গুগল এডসেন্স থেকে রীতিমতো ভালো উপার্জনের জন্য প্রতিদিন 500 ভিজিটর আসা উচিত।

প্রাথমিকভাবে যদি ব্লগিং করছে এমন কেউ গুগল এডসেন্স ব্যবহার করে। তার কাছে  শুরুতেই ভালো আয় আসাটা জটিল বলে মনে হয়। একটা সময় পর ধীরে ধীরে ইনকাম দ্রুত বাড়তে থাকবে।

তবে আমি আপনাকে সাজেস্ট করবো, ওয়াডপ্রেস সাইটে টাকা ইনভেস্ট না করে, ফ্রী প্ল্যাটফর্ম  Blogger এ ব্লগিং শুরু করার জন্য। যে মাত্র উপার্জন আসা শুরু হবে, সে মাত্র একটি প্রফেশনাল প্লাটফর্মে চলে যাবেন ব্লগিং করার জন্য।

গুগল এডসেন্স মূলত অ্যাড পাবলিশিং করার মাধ্যমে উপার্জন দেয়। আপনার পাবলিশিং স্ট্রাটেজি এবং অপটিমাইজেশন এর উপর ভিত্তি করে উপার্জন ২গুণ কিংবা তিনগুণ হয়ে যেতে পারে।

গুগল এডসেন্স এর পাশাপাশি অতিরিক্ত সুবিধা পেতে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং, কিংবা স্পন্সর পোস্ট করুন। যাতে গুগল এডসেন্স এর ওপর নির্ভরশীল না হতে হয়।

এ ধরনের মনিটাইজিং কাজ করার আগে অবশ্যই কিছু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন। বেশি বেশি ইউটিউব ভিডিও দেখুন। এবং এ সম্বন্ধে জানুন। ব্লগিং ও ইউটিউব এর সম্বন্ধে আরও জ্ঞান আহরণ করুন। পরবর্তীতে অ্যাডসেন্স মনিটাইজ নিন। যাতে করে আপনি এ ব্যাপারে এক্সপার্ট হতে পারেন।  

খুব বিগিনার পর্যায় থেকে যদি এডসেন্স নিয়ে কাজ করেন, তবে অবশ্যই উপার্জন কমই হবে। এবং হাল ছেড়ে দিলে হবে না। তবে আমি যতটুকু জানি, এডসেন্স ভিজিটরকে যথেষ্ট মূল্য প্রদান করবে। এবং আপনি তা থেকে ভালো ইনকাম পাবেন।


2. YouTube –  Biggest ভিডিও শেয়ারিং প্ল্যাটফর্ম।

আপনাকে এটা মেনশন করে দেয়ার কোনো দরকার নেই। কারণ, ইউটিউব হচ্ছে একটি জনপ্রিয় ভিডিও শেয়ারিং প্ল্যাটফর্ম। ভিডিও শেয়ার করার যত প্ল্যাটফর্ম আছে এই পুরো ইন্টারনেট দুনিয়ায়। তার মধ্যে সবার প্রথম স্থানে রাখা হবে ইউটিউবকে। 

ইউটিউব আপনাকে গুগলে একটি অনলাইন জব অফার করে। কাজেই আপনি কেনইবা এ প্ল্যাটফর্মে জয়েন হচ্ছেন না? এবং ইনকাম করছেন না? বরঞ্চ আপনার এই প্লাটফর্ম এর সুবিধাটি কাজে লাগানো উচিত। ইউটিউব সম্বন্ধে ভালোমতো কোর্স সম্পন্ন করলে, আসলে সফল ইউটিউবার হওয়া যাবে।

ইউটিউবিং করার আগে একটি নিশ বা ক্যাটাগরি সিলেক্ট করে, রীতিমতো সততার সঙ্গে কাজ করে যেতে হয়। এবং প্রতিনিয়ত ভিডিও আপলোড করতে হয়।

আপনি কিছু বেসিক স্টেপ পূরণ করলেই ইউটিউবার হতে পারবেন।

স্টেপ নং 1:  নিজের একটি ইউটিউব চ্যানেল তৈরি করুন।

স্টেপ নং 2: কিছু ভালো ভিডিও তৈরি করুন। যেগুলো অবশ্যই মোবাইল, পিসিতে অনেক ভালো করে অপটিমাইজ করা থাকবে। চাইলে আপনি ক্যামেরা ব্যবহার করতে পারেন। যে কোন একটি ওয়েব ক্যামেরা। অথবা স্ক্রিন রেকর্ডিং করেও ভিডিও আপলোড করা যায়।

স্টেপ নং 3: ভিডিওগুলোকে কিছু এডিট করে প্রফেশনাল Look দিয়ে আপলোড করুন।

স্টেপ নং 4: তার আগে বলে দাও উচিত ছিল, একটি নির্ধারিত ক্যাটাগরিতে ভিডিও সাবমিট করবেন। আপনি টেকনোলজি রিলেটেড ইউটিউব চ্যানেল তৈরি করতে পারেন। অথবা গেমিং, শিক্ষা রিলেটেড অনলাইন ইউটিউব চ্যানেল খোলা যায়। এছাড়া বিনোদনমূলক ইউটিউব চ্যানেলও তৈরি করা যায়।

স্টেপ নং 5: একই পদ্ধতিতে প্রতিদিন ভিডিও আপলোড করতে থাকুন। যতক্ষণ না 1 হাজার সাবস্ক্রাইবার অর্জন করে নিচ্ছেন। যদি 1000 সাবস্ক্রাইবার অর্জন করে নেন। তবে একটা অনুমান করা যায় যে, আপনি মনিটাইজেশন পাবেন। এবং প্রতিদিন আপনার 100 এর বেশি ভিজিটর আসা যাওয়া করবে।

আমার দেখানোর স্টেপ গুলো অনুসরণ করতে থাকুন, যতক্ষণ না আপনি 1000 সাবস্ক্রাইবার এবং 4000 ঘন্টা ওয়াচ টাইম কালেক্ট করে নিতে পারছেন। আপনাকে মনে রাখতে হবে, প্রথম দিকের ভিডিওগুলোর ডিউরেশন 20 মিনিটের বেশি রাখা উচিত।  

যাতে 4000 ঘন্টা ওয়াচ টাইম মিশন কমপ্লিট করা যায়। তারপর আপনি গুগল এডসেন্স এর জন্য মনিটাইজেশন চাইতে পারেন। এবং একবার এপ্রুভাল পেয়ে গেলে আপনি শুধু ভিডিও আপলোড দিতে থাকুন। এবং আপনার কাছে চান্স থাকে, একটি ভিডিও ভাইরাল হয়ে যাওয়ার। 

একবার যদি আপনার ভিডিও কোনোভাবে ভাইরাল হয়ে যায়, তাহলে আপনি স্পনসর্ড কনটেন্ট তৈরি করে, বা স্পন্সর পোস্ট প্রদর্শনের মাধ্যমে। ইউটিউব থেকে দ্বিগুন কিংবা তিনগুণ উপার্জন করে নিতে পারবেন। 

তার আগে আপনাকে বলে রাখি, ভিডিও এসইও নামক একটি কনসেপ্ট আছে। এসইও মানে হলো সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন। আপনি হয়তো জানেন, গুগলের পর পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম সার্চ ইঞ্জিন হলো ইউটিউব। ইউটিউবে ভিডিও রিলেটেড বিভিন্ন সার্চ হয়। 

এখন যদি ইউটিউব ভিডিও সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন না শিখেন,  তবে আপনি এ ব্যাপারে কিছুই বুঝবেন না। এবং আপনি ভিডিওতে অর্গানিক্যালি ট্রাফিক পাবেন না। ইউটিউব ভিডিও গুলো আবার সোশ্যাল শেয়ারিং এর মাধ্যমেও বুস্ট করানো যায়। ইউটিউব ভিডিওগুলোকে বেশি বেশি শেয়ার করুন। 

 

3. Google Blogger/Blogspot

কোন সন্দেহ নেই, ব্লগার বা ব্লগস্পট হলো গুগোলের একটি অফিশিয়াল ফ্রি প্লাটফর্ম।  ব্লগাররা যারা ব্লগিং নতুন শুরু করে, তাদের বেশির ভাগই গুগোল ব্লগার প্লাটফর্মে যাত্রা শুরু করে। একজন ব্লগারের উপার্জন সর্বনিম্ন 10 হাজার টাকা থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ কয়েক লাখ পর্যন্ত হয়। এমন অসংখ্য ব্লগার আছে পৃথিবীতে, যারা মাসে এক লক্ষ ডলার পর্যন্ত উপার্জন করে নেয়।

গুগোল ব্লগার প্লাটফর্মে একজন প্রফেশনাল ব্লগার এর মত কাজ করতে পারেন।  প্রতিনিয়ত ব্লগিং করে ভিজিটরদের নিকট তথ্য শেয়ার করুন। তাদেরকে নিজের মতামত জানান। মানুষের সাথে লেখালেখির মাধ্যমে আরো আত্মিক সম্পর্ক গড়ে তোলেন। লেখালেখির মাধ্যমে  নিজের অনুভূতি প্রকাশ করুন, মানুষের উপকার করুন। 

এই ব্লগিং করা অনেকটা জার্নালিজমের মতই। গুগল ব্লগস্পটেও সহজেই ব্লগিং করা যায়। যারা ব্লগার, হয়তো একটা সময় তারা ওয়ার্ডপ্রেসের মতো ব্লগিং প্লাটফর্মে চলে যায়। তার কারণ ওয়ার্ডপ্রেসে ব্লগিং করা নিয়ে বিশেষ স্বাধীনতা আছে। আপনার নিজের একটি ব্লগ সাইট থাকবে। এবং সেটিতে আপনার কন্ট্রোল থাকবে। আর কেউ সেটাতে কন্ট্রোল করতে পারবে না। 

যেমনটা, গুগোল ব্লগার এর সম্পুর্ন বিপরীত। যেহেতু Blogger  গুগলের একটি প্রোডাক্ট, ব্লগারে তৈরি বিভিন্ন ব্লগ গুগলের তত্ত্বাবধানে থাকে।

যাইহোক, গুগোল ব্লগারের একটি সহজ সুবিধা হলো, এখানে ফ্রিতে ব্লগ সাইট তৈরি করতে পারেন। ব্যবহার করাও অনেক সহজ। আপনি যেকোনো একটি থিম ইন্সটল করে প্রফেশনাল লুক দিতে পারেন। তাছাড়া গুগোল ব্লগারে ফ্রি হোস্টিং পাওয়া যায়। শুরু থেকে একটি সাবডোমেইন থাকে।  

পরবর্তী সাবডোমেন না নিয়ে একটি কাস্টম ডোমেব এড করতে পারেন। সেটা অবশ্যই কাস্টম টপ লেভেল হতে হবে। যেমনঃ. Com, .org, .co, .info নিলে সেটা আপনার ব্লগের জন্য অনেক উপকার হবে। গুগল ব্লগার থেকে সহজেই এডসেন্স মনিটাইজেশন নেয়া যায়। এবং গুগল এডসেন্স এডভার্টাইজিং এর অপশন  ব্লগস্পটের ড্যাশবোর্ডেই প্রদর্শন করানো থাকে। যদি এডসেন্স এর মাধ্যমে ব্লগার থেকে উপার্জন করতে চান। তবে আপনার ইনকাম হবে যথেষ্ট পরিমাণে।

কিভাবে গুগল ব্লগারে একটি সাইট তৈরি করবেন?

তার আগে আমি আপনাকে জানিয়ে দেই, এই নিয়ে একটি আর্টিকেল আমি আগে থেকে প্রকাশ করেছি। 

সেটা হলঃ ব্লগিং কি ; এবং কিভাবে গুগল ব্লগার থেকে আয় হবে? 

সে আর্টিকেলটি পড়ে নিলে ব্লগার সম্বন্ধে সব তথ্য পেয়ে যাবেন। তাছাড়া আমি একটু আধটু বলে রাখি। গুগোল ব্লগার একটি ব্লগিং প্লাটফর্ম । সেখানেও আপনাকে ব্লগ তৈরি করতে হয়। 

তার জন্য আপনি 'গুগল ব্লগার' অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে চলে যান। সেখানে 'Create A New Blog' নামক অপশনে ক্লিক করুন। তারপর আপনার কাছে নতুন ইন্টারফেস আসবে। 

সেখানে আপনি নিজের জিমেইল অ্যাকাউন্টে Sign In করতে পারেন। নিজের জিমেইল একাউন্টে যদি Sign In করে নেন। তবে সেখানে আপনাকে নিজের Blog Name দিতে হবে। একটি ডোমেইন সিলেক্ট করতে হবে। বা ডোমেইন দিতে হবে, এড করতে হবে। 

সেটি আবার blogger.com নামক আরেকটি ডোমেইন এর সাথে এড হয়ে, সাব ডোমেইন তৈরি করে নেবে। 

এতোটুকুই মূলত ব্লগ তৈরি করার স্টেপ। এছাড়া পরবর্তীতে আপনাকে থিম কাস্টমাইজেশন করতে হবে। সেগুলো আপনি একটি ইউটিউব ভিডিও ও টিউটোরিয়াল দেখে নিলেই যথেষ্ট হবে।

গুগোল ব্লগারে তেমন বিশেষ সীমাবদ্ধতা নেই। আপনি যদি এখানে খাপ খাইয়ে ব্লগিং করতে পারেন, তবে সেখান থেকে রীতিমতো ভালো ভিজিটর পাওয়া যায়। যেমনটা আমি গুগল ব্লগারেই নিজের ব্লগসাইট রেখেছি। এবং এখানে নিয়মিত ভিজিটর পাচ্ছি।  

যে মাত্র একটি নির্ধারিত এমাউন্টে ভিজিটর নিয়মিত পেতে শুরু করবেন। পাশাপাশি গুগল এডসের পলিসি মেনে চলে একটি ব্লগ সাইট তৈরি করলে সেখানে অ্যাডসেন্স মনিটাইজ পেয়ে যাবেন। এটি একেবারেই কঠিন নয়।

একটি ব্লগার সাইটের প্রাণ হলো কনটেন্ট। যত বেশি কনটেন্ট আপলোড করবেন, যত বেশি কন্টেন্ট আপলোড দিবেন, আপনার রেংকিং ও স্ট্যাটিজি ততই বৃদ্ধি পাবে। এতে করে আপনার ব্লগ সাইটে বেশি বেশি ভিজিটর পাবেন। সার্চ ইঞ্জিনে আপনার ব্লগ টপ পজিশনে থাকবে। ইত্যাদি।


4. Google Ads (AdWords)

অনেকের মনে প্রশ্ন আসবে, গুগল এডসেন্স থেকে আয় করা যায় এটা বুঝলাম। কারণ এডসেন্সে এড প্রদর্শন করতে দেয়। সে এড প্রদর্শনীতে ক্লিক করলে, সেখান থেকে টাকা আয় করে নেয়া যায়। কিন্তু Google Ads এ তো কেউ এড সাবমিট করবে। মানে যদি আপনার ব্লগ বা ওয়েবসাইট কিংবা প্রডাক্ট প্রমোশন করাতে চান তার জন্য গুগল এডসে নিজের অ্যাড সাবমিট করতে পারেন। 

তার মানে এই না যে, সেখান থেকে আপনি ডিরেক্টলি উপার্জন পাবেন। বরঞ্চ দেখা যায় গুগলে আপনাকে আরো টাকা বিনিয়োগ করতে হয়, নিজের প্রোডাক্ট কিংবা ওয়েবসাইটকে প্রমোট করার জন্য। তাহলে উপার্জন কোথেকে আসে? 

ওখানেই আসলে উত্তর পাওয়া যায়। গুগল থেকে আপনি ডিরেক্টলি উপার্জন করতে পারেন না। আপনাকে পরোক্ষভাবে ভাবতে হবে। দেখুন, আপনি হয়তো একটি প্রোডাক্টের ওয়েবসাইট প্রমোট করার জন্য গুগোলএ এডওয়ার্ডে নিজের এড তৈরি করে  সাবমিট করছেন। যাতে আপনার প্রোডাক্ট প্রমোট হয়+ এডভার্টাইজিং হয়। 

এতে করে কি হচ্ছে? গুগোল একটি ভালো অপ্টিমাইজড ওয়েবসাইট।  কিভাবে একটি এড ভালো ভাবে অপটিমাইজড করে ভিজিটিরদেরকে দেখাতে হবে তা গুগল জানে। গুগল চায় এড দেখিয়ে যাতে করে আপনার কোম্পানিটি বা ওয়েবসাইটটি উপকৃত হয়।  

আপনি যখন গুগোল এডসে একটি জিনিস প্রমোট করেন, তবে সেখান থেকে আসলে কমিশন পাওয়া যায়। আপনি যদি ই-কমার্স সাইটের এড Google Adwords এ দেন, তবে পণ্যের ক্রয় করার পরিমাণ অনেক বেড়ে যাবে। এভাবে ভালোমতো এড অপটিমাইজ করে গুগল Ads আপনার উপকার করে। এবং Indirectly উপার্জন বাড়ায়।

কিভাবে Google Adword ইনকাম বাড়াবে?

গুগল এডওয়ার্ড যদি আপনার সাইটের এড থাকে। তার মানে এই যে হাজার হাজার ভিজিটর ও মানসম্মত কোয়ালিটি ট্রাফিক আপনার সেই এড দেখছে। এডটি তাদের কাছেই শো হবে, যারা কোনো একটি প্রোডাক্ট কিংবা আপনার ওয়েবসাইটের মত কোনো একটি জায়গার প্রতি এট্রাক্ট কিংবা ইন্টারেস্টেড। তারাই আপনার অ্যাডগুলো শো করবে,এড গুলো দেখবে।

এমনকি ঐ সকল লোকজনেরাই এডে ক্লিক করবে। এডে ক্লিক করার মানে, সে অবশ্য ইন্টারেস্টেড হয়েছে। এবং আপনার ওয়েবসাইটে গিয়ে কিছু একটা করতে চায়।  


5. Google Play Store: অ্যাপ্লিকেশন সাবমিট করে বিক্রয়।

গুগল প্লে স্টোর নামক অ্যাপ্লিকেশনটি খুবই জনপ্রিয়। এখানে বিনোদন, গেম, ফাইনান্সিয়াল ট্রানসেকশনস, সকল ধরনের টপিক নিয়ে অ্যাপ্লিকেশন তৈরি হচ্ছে। যদি আপনার একটি ভালো ধারনা থাকে। আইডিয়া থাকে। 

কোন একটি গেমিং অথবা ফানি অ্যাপ তৈরি করতে চান। তবে সেটি গুগল প্লে তে শেয়ার করে ইনকাম করতে পারেন। গুগল প্লে তে যেকোনো একটি অ্যাপ যদি আপনি সাবমিট করতে চান, তবে আপনাকে পে করতে হবে। পরবর্তীতে সে অ্যাপ্লিকেশনে আপনি চাইলে গুগোল অ্যাপ মনিটাইজেশন প্লাটফর্ম Admob ব্যবহার করে ইনকাম করতে পারেন। 

যেকোনো একটি এপ্লিকেশন গুগল প্লে স্টোরে পাওয়া যায়। যদি আপনার এপ প্লে স্টোরে গ্রহণযোগ্যতা পায়। তবে এ নিয়ে চিন্তা করতে হবেনা। এরপর আপনার যত বেশি ইউজার হবে যত বেশি মানুষ এপটিকে ইউজ করবে, এমনকি ডাউনলোডস যত বেশি হবে, তত বেশি ইনকাম পাবেন। তার কারণ আপনি এপে যে এড যোগ করেছেন, সেগুলো বেশি বেশি মানুষ দেখবে। আপনার জন্য ইনকাম বেশি আসবে।

Google Play তে এপ আপলোড করার প্রক্রিয়াঃ

একটি গুগোল অ্যাকাউন্ট অর্থাৎ Wallet Merchant Account তৈরি করে নিন। এবার সাইন ইন করুন। এবং ‘financial reports’ নামক অপশনটিতে ক্লিক করুন।

 ‘set up a merchant account now’অপশনে ক্লিক করুন। এবার আপনার এপলিকেশন আপলোড করুন। এবং এপটি সেল করাও শুরু করে দিন।

যেহেতু আমি আপনাকে বলছি যে, গুগল প্লে অ্যাপ সেল করে ইনকাম করুন। মানে হল গুগল প্লে স্টোরে অ্যাপ্লিকেশন দিবেন, এবং সেটার একটি প্রাইস নির্ধারণ করবেন। এটি অবশ্যই পেইড এপ হতে হবে। তাহলে আপনি এপ সেল করে উপার্জন করতে পারেন। 

একবার যদি পেইড অ্যাপ সাবমিট হয়, এবং ভালো ফিচার যুক্ত হয়। তবে অবশ্যই ভিজিটর আসবে এবং এপটি ক্রয় করে নেবে। এবং যত বেশি ইউজার ক্রয় করবে, আপনার মার্চেন্ট একাউন্টে ততো বেশি উপার্জন জমতে থাকবে।

যদি আপনার অ্যাপ্লিকেশনের একটি পেইড অ্যাপ হয়। তবে মনে রাখবেন পেইড অ্যাপ কে কখনো ফ্রী অ্যাপ এ পরিণত করতে পারবেন না। একইভাবে ফ্রী অ্যাপকে কখনো পেইড অ্যাপ এ পরিণত করতে পারবেন না। যখন এপটি আপলোড করবেন, তখনই আপনাকে ঠিক করতে হবে, এপটি পেইড হবে; নাকি ফ্রি হবে?


6. Google Keyword Planner

প্রতিদিন পুরো পৃথিবীতে গুগোলের সার্চ ইঞ্জিনে অসীম বার সার্চ করা হয়। সেগুলো ডাটা কালেক্ট করা অনেক মুশকিল। পৃথিবীতে যে সমস্ত ওয়ার্ড সার্চ করা হয়, সেগুলো গুগল keyword Planner মতো সাইটে এনালাইজ করা থাকে। 

একটি পার্টিকুলার জায়গায়  কিছু ওয়ার্ড কিংবা শব্দগুচ্ছ কতবার সার্চ করা হয়? সেটি গুগল কিওয়ার্ড প্ল্যানারে সংগ্রহ থাকে। তার মাধ্যমে যারা ইউটিউবার, ব্লগার কিংবা অ্যাফিলিয়েট মার্কেটার, এফিলিয়েট করাতে চাইছে, বা ডিজিটাল মার্কেটিং করাতে চাইছে তাদের জন্য বেশ উপকারী। এবং এটি একটি ইনকাম সোর্স হিসেবে কাজ করতে পারে।  

তার কারণ আপনাকে উপযুক্ত তথ্য দিচ্ছে। যে কোন শব্দটি কতবার সার্চ হচ্ছে। কিওয়ার্ডের ভলিয়ম কত? এবং সেখান থেকে যারা একটি প্রোডাক্ট মার্কেটিং করাতে চায় তারা অনেক বেশী উপকৃত হয়। এবং তাদের ইনকামের কিছু অংশ এই গুগল কিওয়ার্ড প্ল্যানারের সঠিক তথ্যের ওপরই নির্ভর করছে।

Keyword Planner এর সকল সুবিধাঃ

গুগল কিওয়ার্ড প্ল্যানারের কিছু ফিচার জেনে নিলে, আপনারা একটু ভালো করে বুঝবেন।

গুগল কিওয়ার্ড প্ল্যানারে Search For Trends থেকে বেস্ট কিওয়ার্ডগুলো বের করা যায়।

বিখ্যাত সব সার্চের হিস্টোরিক্যাল ডাটা কালেক্ট করে রাখা যায়।

নতুন নতুন কিওয়ার্ড বের করে নেয়া যায়। তাছাড়া কোন ক্যাটাগরিতে কি রিলেটেড শব্দগুচ্ছ সার্চ হয়েছে সেগুলো সংগ্রহ করে রাখা যায়।

এখানে আপনি লোকেশন কিংবা ভাষা স্পেসিফিক রেজাল্ট পাবেন।

এখানে competition level, monthly searches, organic impressions, suggested bids, ad impressions ফিল্টার করে রেজাল্ট দেখতে পাবেন।


7. Search Engine Optimization Expertise 

গুগোল এত বড় ব্র্যান্ড ও Tech Giant য়ে পরিণত হয়েছে যে, গুগলের সার্চ ইঞ্জিনে একটি আর্টিকেল কিংবা কন্টেন্ট ব্যাংক করানোর জন্য একজন এক্সপার্টকে কত ডলার পে করা হয়? তা জানলে আপনার চোখ কপালে উঠবে। একজন এসইও এক্সপার্ট এর মাসিক বেতন 35 হাজার ডলার। 

এটা শুনে আপনি বলতে পারেন যে, আমি কি সুন্দর চাপা ছাড়ছি! কারণ বাংলাদেশে কয়টা এসইও এক্সপার্ট আছে? তাদের বেতনই বা কত? আমি পুরো বিশ্বের কথা তুলে ধরছি। বাংলাদেশের নয়, বাংলাদেশের অলিগলিতে পাওয়া SEO Expert রা আসলে ঐ কাতারে নিয়ে আসা ঠিক না। 

তার কারন বিশ্বের বড় বড় এক্সপার্টরা অনেক বড় এমাউন্টের উপার্জন করে। আর আমি এখানে  USA এর একটা রিপোর্ট মাত্র তুলে ধরলাম। গিয়ে দেখুন যে, বাংলাদেশ-ভারতে কিছু এসইও এক্সপার্ট আসলে ওই এসইও এক্সপার্টদের কাতারে কখনোই পড়েনি। কিংবা তাদের সংগ্রহ করা ডাটা তে আসেনি।

এখন প্রশ্ন হলো, সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন গুগল থেকে আয় কিভাবে হয়? এটি গুগলের জব নয়।   SEO Expert দের জন্য google.com জীবন হয়ে যাচ্ছে। তারা ইনডিরেক্টলি গুগলকেই ভোগ্যপণ্য ব্যবহার করে জীবন চালাচ্ছে।

একজন এসইও এক্সপার্ট কোন একটি আর্টিকেল বা ওয়েবসাইট কনটেন্ট সার্চ ইঞ্জিনে র‍্যাংক করায়। 

আবার বলি,  Search Engine Evolutor এর ইনকাম প্রতি ঘন্টায় 12 ডলার। এ পেমেন্ট তার কাজ করার দক্ষতার উপর নির্ভর করে। এটা অনেক বেশিও হতে পারে। সেটা তার নিজের দক্ষতার ওপরই নির্ভরশীল। Google থেকে টাকা আয় করুন।


8. Google Opinion Rewards: Google থেকে টাকা আয়।

গুগোলের  অন্যতম সেরা অ্যাপ্লিকেশন হলো গুগোল অপিনিয়ন রেওয়ার্ডস। যদিও অ্যাপ্লিকেশনটি বাংলাদেশ কিংবা ভারত অঞ্চলে ব্যবহার করা যায় না। 

এই এপ্লিকেশন ব্যবহার করার জন্য আপনাকে অবশ্যই একটি আমেরিকা অথবা কানাডা সার্ভারে তৈরি জিমেইল অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করতে হবে। এর জন্য আপনি ভিপিএন ব্যবহার করে একটি জিমেইল অ্যাকাউন্ট তৈরি করে নিবেন। আর অবশ্যই ভিপিএন আমেরিকান সার্ভারে কানেক্ট করা হতে হবে। যাতে করে ওই সার্ভারে আওতাধীন থেকে একটি জিমেইল অ্যাকাউন্ট তৈরি করতে পারেন। Google থেকে টাকা আয় করে নিন

ওই জিমেইল অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে চাইলে আপনি ওই Google Opinion Reward App ব্যবহার করতে পারেন ।পরবর্তীতে আপনার জরিপ পূরণ করার ক্ষেত্রে কোনো বাঁধা পড়বে না। এখানে প্রতিটি জরিপ পূরণে সর্বনিম্ন 0.25 থেকে সর্বোচ্চ ৫ ডলার পর্যন্ত পাবেন।  অর্থাৎ মাসে চার থেকে পাঁচবার জরিপ পূরণ করা থাকে।

কিছু সাধারণ প্রশ্ন ও উত্তর দিয়ে আপনি ডলার ইনকাম করতে পারবেন। আপনি নিজের একাউন্টে রেখে দিতে পারবেন। যেটা আপনার গুগল প্লে ব্যালেন্স হিসেবে ব্যবহৃত হবে।

এটি গুগলের অন্যান্য প্ল্যাটফর্ম এর মধ্যে অন্যতম। তবে এখানে কাজ করে আপনি ভালো উপার্জন করতে পারবেন না। কিংবা রীতিমতো ধনী হয়ে যেতে পারবেন না। কিছুমাত্র টাকা আসবে। যেটা আপনি বোনাস হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন।

একটি বিষয় বা জিনিস সম্বন্ধে আপনি কেমন জ্ঞান রেখেছেন? কিংবা আপনাকে বিভিন্ন প্রোডাক্ট, ইমেজ জায়গা সম্বন্ধে জিজ্ঞাসা করা হবে। সেগুলোর নিজস্ব মতামত দিয়ে আপনি ফ্রিতে ডলার ইনকাম করতে পারেন।

 Google Opinion Rewards কিভাবে কাজ করে?

অ্যাপ্লিকেশনটি এখান থেকে ডাউনলোড করে নিন। পরবর্তীতে ইন্সটল করে ওপেন করুন। যে মাত্র সাইন আপ করবেন, আপনাকে সেখানে কিছু বেসিক পার্সোনাল ডিটেলস দিতে হবে।

মানে আপনার পার্সোনাল বা ব্যক্তিগত পরিচয় প্রদান করতে হবে। যেমনঃ নাম, ঠিকানা, ইমেইল এড্রেস, পাসওয়ার্ড সেট আপ করে কাজ করতে পারেন। তাছাড়া বয়স দিতে হবে।

পরবর্তীতে প্রতি সপ্তাহের শেষে আপনাকে জরিপ পূরণ করার সুযোগ দিবে। এর জন্য এই অ্যাপ্লিকেশনটি মোবাইলে সবসময় ইন্সটল করে রাখবেন। জিপিএস বা লোকেশন ট্র্যাক করতে পারে। আপনার লোকেশন কোথায়? তা জানার জন্য। তাছাড়া এই অ্যাপ্লিকেশনে আপনি চাইলে প্রতি সপ্তাহে একটি নোটিফিকেশন পাবেন কোন জরিপ থাকলে। যে মাত্র পাবেন, সটি পূরণ করে নিবেন এবং ফ্রী ডলার নিতে পারবেন।

এই ডলার গুগল প্লে ব্যালেন্স অথবা পেপালের মাধ্যমে এক্সচেঞ্জ করতে পারেন খুব সহজেই।

 


9. Google Pay

এটি আসলে একটি ইন্ডিরেক্ট অর্থাৎ পরোক্ষ পদ্ধতি, গুগল থেকে ইনকাম করার জন্য। এটি যেকোন অনলাইন স্টোর এবং ই-কমার্স লেনদেনের জন্য আর্থিক সুবিধা দেয়। আপনি যদি ডলার আদান-প্রদান কিংবা কমিশন নেয়ার মাধ্যমে ক্লায়েন্টের পেমেন্ট করেন। তবে কোন একটি পেমেন্ট সম্পন্ন করার পর সেখান থেকে কমিশন নিতে পারেন। এই উপায়ে Google থেকে টাকা ইনকাম করতে পারেন।

কমিশন খুব কম হলেও, ধীরে ধীরে যত বেশি পেমেন্ট হবে তা থেকে বেশি বেশি কমিশন পাওয়া যাবে। এবং ইনকাম হতে থাকবে। গুগোল পেমেন্ট মেথড পেপালের মতোই বর্তমানে সকল গুগল পরিচালিত প্রোডাক্টে ব্যবহৃত হয়। অর্থাৎ এর মাধ্যমে যেকোন একটি বিল পে করা যায়। গুগোল পে একাউন্টে আপনার ডলার নিরাপদ থাকে। যেটি গুগলের একটি জনপ্রিয় প্লাটফর্ম। 

আপনি নিজের কাস্টমারদেরকে ট্রান্সস্ক্রিপশন করতে পারেন গুগোল পে এর মাধ্যমে। যেকোনো ট্রানস্ক্রিপশন সম্পন্ন করার পাশাপাশি আর্থিক লেনদেনও গুগোল পে এর মাধ্যমে করা যায়। 

এখানে সুবিধা এই যে, আপনি যে কোনো আর্থিক লেনদেনে বিশেষ কমিশন পাবেন। তাছাড়া যদি কারো পেমেন্ট গুগল পে এর মাধ্যমে করে দেন। তবে তা থেকে কমিশন নিবেন ঐ ক্লায়েন্টের কাছ থেকে। তার কারণ হচ্ছে, আপনি পেমেন্টটা করে দিচ্ছেন।

ধরুন, ইন্টারনেটে এসে অনলাইন স্টোর থেকে কোন কিছু ক্রয় করা, কিংবা ইউটিউব ভিডিও এডওয়ার্ডে প্রমোট করছেন।  একইভাবে গুগল এডওয়ার্ডসে এড চালানো এসব ব্যাপারে গুগোল পে পেমেন্ট মেথড বেশ কাজে আসে। আপনি এ ধরনের সার্ভিস প্রদান করে, অর্থাৎ বাংলাদেশ থেকে গুগোল এডোয়ার্ড পরিচালনা। কিংবা ইউটিউব ভিডিও বুস্ট করা এসব ব্যাপারে সার্ভিস প্রদান করলে গুগোল পে ব্যবহার করতে পারবেন


10. Google Maps 

গুগল ম্যাপস একটি অসাধারন ফিচার। পুরো বিশ্বের কোথাও কোন জায়গায় যেতে হবে? কিংবা সঠিক লোকেশন খুঁজে পাওয়ার জন্য, গুগল ম্যাপস অনেক জরুরি। এর সম্পূর্ণ ট্রাকিং সিস্টেম আছে। বাংলাদেশের অনেক চিপা চাপা জায়গায় আসা-যাওয়ার জন্য গুগল ম্যাপ ব্যবহার করা হয়। যেমনঃ ঢাকার অলিগলির সংখ্যা অনেক বেশি।  

সেখানকার রিকশাওয়ালারা পর্যন্ত তা চিনতে পারেনা। তাদেরকে দেখিয়ে দিতে হয়। এমতাবস্থায় গুগল ম্যাপ অনেক বেশী জনপ্রিয় হয়ে যাচ্ছে। যেকেউ গুগল ম্যাপ ব্যবহারে সহজেই আসা-যাওয়া করতে পারে। কিংবা সঠিক লোকেশনে পৌঁছাতে পারে। তাছাড়া গুগল ম্যাপে নিজস্ব হ্যান্ড রুলস আছে। জিপিএস এর ব্যবহার করে, যে কেউ লোকেশন ট্রাকিং কিংবা সঠিক জায়গায় পৌঁছাতে পারে।

গুগল ম্যাপ থেকে কিভাবে আয় করব?

যদি একটু ভিন্নভাবে বলি, তাহলে আমি বলব যে, গুগল ম্যাপ থেকে আপনি আয় করতে পারেন। কোন ধরনের কঠিন কাজ না করেই সাথে সাথেই। যেমনঃ

১) কোন একটি জায়গার রিভিউ দিন

আপনি ঐ সকল জায়গার রিভিউ দিন, যেখানে আপনি গিয়েছেন। তাও গুগল ম্যাপ ব্যবহার করে। আপনার ফিডব্যাক গুগলের জন্য অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। গুগলের নিজস্ব ফিচার আছে, এটি আরও উন্নত করতে সে ফিডিব্যাক অনেক জরুরী। এটা কোন ব্যতিক্রম নয়। এবং এর মাধ্যমে কোন ইনভেস্টমেন্ট ছাড়াই, আপনি কার্যকরী উপায়ে আয় করতে পারেন।


২) কোন জায়গার লোকেশন এর ফটো পোস্ট করুন

এটি অনেক ভালো উপায়। আপনি যে জায়গায় যান না কেন, সেখানকার ফটো গুগল ম্যাপে পোস্ট করে দিতে পারেন। এটি অসাধারণ উপায়, আপনার ওয়ালেট এ কিছু টাকা যোগ করে নেয়ার জন্য। গুগল ম্যাপে অসংখ্য জায়গার ফটোগ্রাফ পাবেন। 

ফটোগ্রাফ গুলো যদি আপনার ভ্রমণ করার জায়গায় সাথে মিল থাকে,সেগুলোর নাম উল্লেখ করে দিতে পারেন। এবং এর মাধ্যমে গুগল ম্যাপের ওয়ালেটে টাকা আয় করা যায়।


৩)কোন জায়গা এর লোকেশন এডিট করুন, অথবা যোগ করুন।

পুরো পৃথিবীতে অসংখ্য জায়গা রয়েছে, যা গুগল ম্যাপে হয়ত একটু আধটু ত্রুটি থেকে যেতে পারে। আপনি পুরো পৃথিবীর যত জায়গা, বিল্ডিং, স্থান আছে সেগুলো এডিট করতে পারেন। অর্থাৎ সঠিক জায়গাটি এডিট করে দিতে পারেন। 


একইভাবে নতুন জায়গা যোগ করতে পারেন। এর মাধ্যমে গুগল ম্যাপ থেকে ইনকাম করা যায়। আপনার এই কাজের জন্য, গুগল আপনাকে পে করবে। 

এখানে গুগল ম্যাপের বিভিন্ন লোকেশন সম্বন্ধে সঠিক তথ্য দিয়ে আপনি তাদের ফিচারকে উন্নত করতে সহযোগিতা করছেন। যার কারণে গুগল আপনাকে পে করবে। এবং গুগোলে একটি ছোটোখাটো জব করে নিতে পারছেন।  

তাছাড়া গুগলের সার্চ স্ট্যাটিক উন্নত করতে হবে। আর এর জন্য আপনি অবশ্যই পেইড হবেন। যখন আপনার কাজ আর উন্নত হবে, আপনি তার থেকে আরও বেশি প্রফিট পাবেন।


শেষকথাঃ

আজকে আমরা গুগল থেকে টাকা ইনকাম করে নেয়ার উপায়গুলো জানলাম। গুগোল আসলে একটি বড় প্ল্যাটফর্ম। এর থেকে অসংখ্য উপায় আছে ইনকাম করার। কিন্তু আমি কিছুমাত্র উপায় তুলে ধরলাম।  বাংলাদেশ থেকে অনেকেই বিভিন্ন সেক্টরে গুগলে সরাসরি চাকরি করার সুযোগ পায়। কিন্তু আমার উল্লেখ করা উপায় গুলো আসলে গুগলের প্লাটফর্মে কাজ করা, কোন চাকরি করার জায়গা না।

সেখানে আপনি নিজের মেধা দেখিয়ে গুগলের প্লাটফর্মে কাজ করে ইনকাম করতে পারেন। এতে কোন বাধ্যবাধকতা নেই। যদি ব্লগ ভালো লাগে, তবে অবশ্যই শেয়ার করবেন। আর অবশ্যই ডানপাশের নিচের বেল আইকনটিতে ক্লিক করে সাবস্ক্রাইব করে রাখুন। তাতে আমাদের যেকোনো ব্লগ প্রকাশ পেলে নোটিফিকেশন পাবেন।

Naimul Islam

নাইমুল ইসলাম Expert Bangladesh এর Founder এবং Owner। সে অবসর সময়ে ব্লগিং ও লেখালেখি করতে ভালোবাসে। একইভাবে অনলাইনে নতুন কিছু শেখা তার প্রধান শখ।

2 Comments

কমেন্ট করার মিনতি করছি। আমরা আপনার কমেন্টকে যথেস্ট মূল্য প্রদান করি। এটি আমাদের সার্ভিসের অংশ।

তবে কোনো ওয়েবসাইট লিংক প্রকাশ না করার অনুরোধ রইল।

Previous Post Next Post