অনলাইনে ইনকাম মোবাইল দিয়ে ২০২১

অনলাইনে ইনকাম মোবাইল দিয়ে ২০২১।

আজকে আমরা জানবো অনলাইনে ইনকাম করার উপায় 2021। প্রতিবছর অনলাইনে ইনকাম করার উপায় গুলো আপডেট হয়। যেমনঃ 2021 সালে আমরা যে অনলাইনে আয় করার ব্যাপারটাকে খুব সহজভাবে নিচ্ছি। 2015-2016 সালে তেমন সহজভাবে নেওয়া যেত না। চলুন অনলাইনে ইনকাম মোবাইল দিয়ে ২০২১ নিয়ে ব্লগটি শুরু করা যাক।

অনলাইনে ইনকাম মোবাইল দিয়ে ২০২১


ব্লগিংয়ের সাথে আমার সম্পর্ক।

আমার প্রথম ব্লগিং করার যাত্রা শুরু হয় 2020 সালে। পরবর্তীতে ব্লগিং করার হাতে খড়ি হলে আমি নিজের একটি ব্লগ সাইট খুলি। যেটি আপনারা দেখতেই পাচ্ছেন। অনলাইনে আয় করার অনেক উপায়ের মধ্যে আমি ব্লগিং কে বেছে নিলাম। তেমনি আপনি চাইলে আজকের ব্লগে উল্লেখ করা যেকোনো একটি উপায় বেছে নিতে পারেন।

একটু নজর রাখলে দেখা যাবে এমন হাজার হাজার মানুষ আছে। যারা ইন্টারনেট থেকে প্রতিনিয়ত আয় নিচ্ছে। রোজগার করছে।


অনলাইনে ইনকাম মোবাইল দিয়ে করার উপায়সমূহ ২০২১ঃ

যেকোনো কাজে দক্ষ ও ধৈর্যশীল হওয়া অনেক জরুরী। হোক সেটা অনলাইনে ইনকাম।রীতিমতো এক সপ্তাহের মধ্যে যে আপনি ধনী হয়ে যেতে পারবেন, এরকম কাজ কোথাও পাবেন না। পেলেও সেটা হাতের নাগালে নেই। অথবা সে পর্যায়ে যেতে হবে। আমি আসলেই বিশ্বাস করি যে, কেউ চাইলেই ইন্টারনেট থেকে আয় করতে পারবে। 

যদি ভাবেন ছোটখাটো ইনকাম করা যাবে এরকম উপায়গুলো বুঝি আমি আজ বলব, তাহলে আপনি সম্পূর্ণ ভুল। উল্লেখিত অনলাইনে ইনকাম করার উপায় গুলো আপনাদের মাঝে শেয়ার করব। এবং সেগুলো থেকে বড় রকমের প্রফিট কিংবা ইনকাম উপার্জন করা সম্ভব।

আজকের আর্টিকেলে আমি এরকম 25 টি ভিন্ন ভিন্ন অনলাইনে আয় করার উপায় সম্বন্ধে জানাবো।



১। আপনার সোশ্যাল মিডিয়া প্রেসেন্স( Presences) মনিটাইজ করুন।

এখানে মনিটাইজ করা বলতে কোন একটি সোশ্যাল মিডিয়া পেইজ থেকে উল্লিখিত সকল উপায়ে আয় করার ব্যাপারটিকে বুঝিয়েছি। প্রথমত অনলাইনে আয় করার জন্য চাইলে সোশ্যাল মিডিয়া পেইজের মাধ্যমে অনলাইন ব্যবসা শুরু করা যায়। অনলাইনে প্রোডাক্ট ডেলিভারি, নিজের কোন ওয়েবসাইট গড়ে তোলা, অনলাইনে ব্যবসা প্রচলন, এর জন্য একটি ফেসবুক পেজ প্রয়োজন পড়ে।

সে ফেসবুক পেজ মনিটাইজেশন করার মাধ্যমে উপার্জন করা যেতে পারে। আমরা জানি যে, ফেসবুক ইন্সট্যান্ট থেকে কোন একটি পেজ মনিটাইজ করতে পারে। আর মনিটাইজেশন এর মাধ্যমে মূলত বিজ্ঞাপন দেখানো হয়। প্রমোশনাল প্রোডাক্ট ও পোস্ট দেখানো হয়। এবং এর মাধ্যমে উপার্জন করা যায়।

ধরুন, সোশ্যাল মিডিয়া যেমনঃ ইনস্টাগ্রাম, ফেসবুক অথবা টুইটার এর মধ্যে আপনি একটিভ আছেন। আপনার কতগুলো ফলোয়ার আছে।  হয়তো নিজের ব্যবসা করার উদ্দেশ্যে তৈরি সোশ্যাল মিডিয়া প্রোফাইল উন্নত করেছেন। এর মাধ্যমে আপনি চাইলে সোশ্যাল মিডিয়ার সেই প্রেসেন্স বা উপস্থিতি ব্যবহার করার মাধ্যমে উপার্জন করতে পারবেন। ইনকাম করার উপায় সমূহঃ


স্পন্সর পোস্টঃ 

প্রথমত অন্যের প্রোডাক্ট, সার্ভিস স্পন্সর বা প্রমোট করার মাধ্যমে অনলাইনে উপার্জন করা যায়। এজন্য একটি সোশ্যাল মিডিয়া পেজ, নিজের সোশ্যাল মিডিয়ার পপুলারিটি কে ব্যবহার করা যায়।


এডভার্টাইজমেন্ট ও পণ্যের প্রমোটঃ অনলাইনে ইনকাম মোবাইল দিয়ে ২০২১

ধরুন আপনার সোশ্যাল মিডিয়ার কোন একটি চ্যানেল আছে। যেটিতে যথেষ্ট ফলোয়ার কিংবা সাবস্ক্রাইবার আছে। সেখানে এডভার্টাইজমেন্ট না করে নিজের নিজের প্রোডাক্ট প্রমোট করা যায়। অনেক কোম্পানি নিজের প্রোডাক্ট ও সার্ভিস প্রমোট করার জন্য উদগ্রিব হয়ে আছে। 

জ্ঞাতব্যঃ এমনটা মনে করা উচিত না যে, বাংলাদেশে কোন নেটিজেন নেই। বাংলাদেশে নেটিজেনে ভরপুর। নেটিজেন বলতে যারা ইন্টারনেট ব্যবহার করে তাদেরকে বোঝায়। 

একটি দেশে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা যত বেশি হবে, সে দেশের বিজ্ঞাপন, অনলাইন এডভার্টাইজিং, ডিজিটাল মার্কেটিং এর পরিসর তত ভালো হবে। আর সেই পরিসর যদি বেশি হয়, তাহলে অনলাইনে ইনকাম করার হরেক রকমের উপায় পাওয়া যাবে।


২। স্পনসরশিপে যোগদান করুন।

Aspire IQ এবং Upfluence হলো স্পন্সর কনটেন্ট, প্রডাক্ট, প্রমোশনাল পোস্ট নেয়ার সবচেয়ে ভালো ওয়েবসাইট। এসব ওয়েবসাইটে হাজার হাজার পটেনশিয়াল কোম্পানি আছে, যারা নিজেদের প্রোডাক্ট-পণ্য রিভিউ ও স্পন্সর পোস্ট দিতে চায়। 

সেখানে লোগ ইন সাইন ইন করা থাকলে সহজেই স্পন্সর করে নিজের সামাজিক প্রোফাইলে পেজে ব্যবহার করা যায়।

শুধু তাই না, নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্রফাইল পেজ ব্যবহার করে নিজস্ব পণ্য বিক্রয় করা যায়। যেকোনো পন্যের ডিজিটাল মার্কেটিং সম্পন্ন করতে একটি সোশ্যাল মিডিয়া পেজ বেশ কাজে আসে। যার কারণে কোন ধরনের ব্যবসায় উন্নতি হতে বেশি সময় লাগে না।

সোশ্যাল মিডিয়ার অনলাইন সপগুলো সম্বন্ধে হয়তো আপনি অবগত আছেন। যার মধ্যে আছে টি-শার্ট, ওয়াটার বটল, প্যান্ট-শার্ট, মেয়েদের জামা কাপড়, প্রসাধনী সামগ্রী ও মোটরস ইত্যাদি।


৩। যেকোনো মাইক্রো-জব করুন।


মাইক্রো-জব কি? 

মাইক্রো-জব বলতে কোন একটি প্লাটফর্ম বা অনলাইন প্লাটফর্ম ব্যবহার করে নিজের সার্ভিস যোগান দেয়ার মাধ্যমে অনলাইনে ইনকাম করাকে বোঝায়।

যেমন ধরুন, ফাইবার(Fiverr) একটি মাইক্রো-জব মার্কেটপ্লেস। এখানে নিজের গিগ(যেখানে সার্ভিস লিপিবদ্ধ থাকে) তৈরি করা যায়। নিজ থেকেই একটি অনলাইন মার্কেট সদৃশ খোলা যায়।

এখানে কাস্টমাররা নিজেই এসে আপনার কাছে নিজের সার্ভিস অর্ডার করবে। এবং সেই অর্ডার অনুযায়ী আপনি তাকে সার্ভিস দিবেন। 


মাইক্রো জবে উপার্জন কিভাবে হয়?

যেমন ধরুন, আপনি কোন একটি বিষয়ে দক্ষ হতে পারেন। সেটা হতে পারে, কনটেন্ট রাইটিং, লোগো ডিজাইন, ওয়েবসাইট ডেভেলপ অথবা কার্টুন চিত্র তৈরি। এ বিষয়ে নিজের দক্ষতা ব্যবহারে রীতিমতো একটি গিগ তৈরি করতে পারেন। যেখানে আপনার সার্ভিস উল্লেখ করা থাকবে। সে সার্ভিস অনুযায়ী কত ইনকাম কাস্টমার থেকে নিবেন তাও উল্লেখ করা থাকবে। 

পরে কোন কাস্টমার আপনার কাছে সার্ভিসটি নিতে আসলে তার বিনিময়ে আপনাকে কমিশন বা সার্ভিস ফি দিবে। এতে করে উপার্জন করা যায়। 

যারা ফাইবারে কাজ করে, তাদের অনেকেই দৈনিক 100 থেকে 200 ডলার সহজেই উপার্জন করতে পারে। এমন অনেক কনটেন্ট রাইটার আছে, যারা প্রতিটি কন্টেন্ট রাইটিং এর জন্য ঘন্টায় 500 ডলার পর্যন্ত চার্জ করে।


অন্যান্য মাইক্রো জব প্ল্যাটফর্মঃ

শুধু ফাইবার নয়, অন্যান্য ফ্রিল্যান্সিং ওয়েবসাইট গুলো মাইক্রো-জব করার জন্য উপযোগী। যেমনঃ (Upwork) আপওয়ার্ক, Guru এর মত ফ্রিল্যান্সিং ওয়েবসাইট গুলো একেকটি মাইক্রো-জব মার্কেটপ্লেস। 


ওখানেও আপনি কনটেন্ট রাইটিং, ওয়েবসাইট ডেভেলপমেন্ট বিডিং করার মাধ্যমে সরাসরি জয়েন করতে পারবেন। এবং তার মধ্য থেকে অনলাইনে ইনকাম করা যাবে।

 

কোন প্ল্যাটফর্ম আপনার জন্য উপযোগী?

ফ্রিল্যান্সিং ওয়েবসাইট গুলো থেকে ফাইবার ওয়েবসাইটটি নতুনদের জন্য অনেক বেশি উপযোগী। সেখানে সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন করে একটি ফাইবার গিগ তৈরি করলে তার থেকে ভালো ভিউ আসে। এবং কাস্টমার পাওয়ার উপায় ও সম্ভাবনা থাকে। 

যেখানে ফ্রিল্যান্সিং সাইটগুলোতে কোনো সার্ভিস প্রোভাইডারের দক্ষতাকে বেশি বড় করে দেখা হয়। 8এবং তার দক্ষতা ও এক্সপেরিয়েন্স এর উপর ভিত্তি করেই মূলত কাস্টমার আসে।


সীমাবদ্ধতাঃ

তার আগে বলে রাখি, মাইক্রো জবগুলো বেশ প্রতিযোগী। সেখানে কোনো একটি কাজে যোগদান করা, এবং উপার্জন করা অনেক প্রতিযোগিতা করতে হয়। নিজেকে একজন ভাল ও দক্ষ ফ্রিল্যান্সার হিসেবে গড়ে তুলতে অনেক বেশি পরিশ্রম, কষ্ট করতে হয়।



৪। অনলাইনে জরিপ পূরণ করে আয়।

বৈদেশিক বিভিন্ন জায়গায় জরিপ পূরণ করার মাধ্যমে উপার্জন কে অনেকে ক্যারিয়ার হিসেবে মেনে নেয়। এর মাধ্যমে ছোট থেকে শুরু করে বড় উপার্জন পর্যন্ত আয় করা যায়। জরিপ পূরণ করার ক্ষেত্রে বিশেষ কিছু পদ্ধতি আছে। আপনি প্রতিনিয়ত উপার্জন করতে পারবেন না।


অনলাইন মার্কেটপ্লেস গুলো আপনাদের মত কোন কর্মচারী রাখেনি যে শুধুমাত্র জরিপ পূরণ করবে আর নিজের মতামত তুলে ধরবে। আর এর মাধ্যমে উপার্জন করে নিজের ক্যারিয়ার গড়ে তুলবে। কেননা মার্কেটপ্লেস গুলো পিউর কাস্টমারদের থেকে জরিপ পূরণ করিয়ে নিতে চায়।



জরিপ পূরণ কিভাবে ক্যারিয়ার গঠন করে?

তারা জরিপ পূরণ করার পুরো একটি সার্ভিস প্রোভাইড করে। ধরুন জরিপ পূরণে নিজের একটি টিম তৈরি করে। এবং লোকজনের উপর ভিত্তি করে জরিপ পূরণের টিম তৈরি করে।

আপনারা সবাই খেয়াল করবেন, জরিপ পূরণ করার মার্কেটিপ্লেস যেমনঃ সোয়াগবাকে রেফারাল সিস্টেম আছে। রেফার করে তাদের থেকে বেশি বেশি উপার্জন হয়। যেটাকে যদি আমি রেফারেল বোনাস বললেও ভুল হবে না।


জরিপ পূরণ করার সাইট গুলো মার্কেটপ্লেস এর উন্নতির জন্য একাধিক তথ্য দেয়। সেগুলোর উত্তর জানতে চায়। যত বেশি ইউজার হবে ওই মার্কেটপ্লেসগুলোর জন্য ততই ভালো হবে। তাতে করে কেউ যদি জরিপ পূরণ করার পাশাপাশি আরও অনেক ইউজার এনে দিতে পারে জরিপ পূরণ করার জন্য। তবে মার্কেটপ্লেসগুলো যথেষ্ট উপকৃত হয়। আর এভাবেই মূলত চলতে থাকে। 


এবং একজন জরিপ পূরণ করার মাধ্যমে উপার্জন করে। এবং অন্যান্যদের থেকেও বাড়তি উপার্জন করতে পারে।


কিছু জরিপ কোম্পানিঃ

Swagbucks, 

Onepoll,

Toluna। 


বিভিন্ন ডিজিটাল প্রোডাক্ট এবং সার্ভিস, এসব ব্যাপারে ব্যক্তি মতামত প্রদান করার মাধ্যমে উপার্জন করা যায়। এজন্য কখনো কখনো গিফট কার্ড অথবা পে-ক্যাশ দেয়া হয়। আরো অনেক পুলিং সার্ভিস আছে। যেগুলো বিভিন্ন টাস্ক পূরণের জন্য উপার্জন করা যায়।

পড়ুনঃ


৫। ওয়েবসাইট কিংবা অ্যাপ টেস্ট করে উপার্জন।

কোন একটি ওয়েবসাইট বা অ্যাপ্লিকেশন কতটা ইউজার এক্সপেরিয়েন্স প্রোভাইড করতে পারে, সেটা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। যেকোন ওয়েবসাইট কিংবা অ্যাপ্লিকেশন এর ডেভলপাররা প্রতিনিয়ত চেষ্টা করে তাদের অ্যাপ্লিকেশনের ইউজার এক্সপেরিয়েন্স বাড়ানোর জন্য।


কি ধরনের কাজ করতে হয়?

যখন একটি ওয়েবসাইট বা এপলিকেশন টেস্টার হিসেবে নিজেকে যোগদান করাবেন। তখন যেকোনো একটি অ্যাপ্লিকেশন বা ওয়েবসাইট প্রথমে ডাউনলোড করতে দিবে। সেটিতে ইউজার এক্সপেরিয়েন্স যাচাই করে নিবেন। 

ছোটখাটো টাস্ক আছে, সেগুলো 10 থেকে 20 মিনিটেই হয়। সেগুলো পূরণ করা লাগে। পাশাপাশি একজন ওয়েব মাস্টার হিসেবে কাজ করার ক্ষেত্রে আপনাকে কখনও কখনও কোন একটি বিশেষ পণ্য মার্কেট থেকে দেখে আসতে বলা হতে পারে। 


এটার মানে এই না যে, আপনাকে সে পণ্যটি কিনতে হবে। এভাবে মূলত একজন ওয়েবসাইট টেস্টার প্রতি ঘন্টায় 60 ডলার পর্যন্ত আয় করতে পারে। শুধু যে ছোটখাট কাজ করে নেয়, তা কিন্তু না। ওয়েবসাইট বা এপে মাঝে মাঝে টেকনিক্যাল সমস্যা চিহ্নিত করে। কোনো বাগ( এপ্লিকেশন ত্রুটি) বের করা লাগে।

এখন প্রশ্ন হতে পারে, তাহলে ওয়েবসাইট ডেভেলপাররা কি করে? বাগ মূলত ওয়েব ডেভেলপারদের কোন ভুলভ্রান্তির কারণেই তৈরি হয়। যেটাকে আমরা বলি কোডিং এর মাঝে কিছু গ্যাপ বা ত্রুটি রয়ে গেছে। এর মধ্যে প্রবলেম বা কোনো একটি মিসটেক হয়ে গেছে, যার কারণে সৃষ্টি হয় বাগ। 


কিভাবে অনলাইনে ইনকাম মোবাইল দিয়ে ২০২১ হয়?

পরবর্তীতে যখন কেউ সেই ওয়েবসাইটের টেস্ট করে। বাগ চিহ্নি করতে সক্ষম হয়। তবে তার জন্য যথেষ্ট মূল্য পরিশোধ করতে হয়। আর এভাবে মূলত ওয়েবসাইটে যারা কাজ করে তারা ওয়েব টেস্টার রাখে।  বিভিন্ন গেম ডেভলপার মাঝে মাঝে গেমের মধ্যে বাগ তৈরি  হলে সেগুলো খুঁজে বের করতে যারা গেমটি খেলে তাদের সাহায্য নেউ। এর বিনিময়ে তাদের ডায়মন্ড টপ আপ করে দেয়া হয়। যেটি গেমে ব্যবহার করা যায়।


উপার্জন কিরকম করা যায়?

আপনি কোথায় বসবাস করছেন, কি ধরনের এপ্লিকেশন টেস্ট করছেন। সেটার উপর ভিত্তি করে আপনাকে উপার্জন দেয়া হবে। যেমন এখানে বাংলাদেশ বা ইন্ডিয়াতে কোন একটি অ্যাপ্লিকেশন বা ওয়েবসাইট টেস্ট করে রিপোর্ট দিলে আপনাকে 10 ডলার দেয়া হবে। যেখানে আমেরিকান কোন একজন নিজস্ব ওয়েবসাইট কিংবা অ্যাপ্লিকেশন টেস্ট করে দিলে তাকে 60 ডলার বা তার চেয়ে বেশি প্রদান করা হবে।

 UserTesting, UserFeel, এবং TryMyUI, প্রতিটি ছোটো খাটো টেস্টিংয়ে ১০ ডলার করে দেয়া হয়।


সীমাবদ্ধতা ও উপকারিতাঃ

ওয়েবসাইট কিংবা এপ্লিকেশন টেস্ট করার মাধ্যমে দীর্ঘস্থায়ী উপার্জন করতে পারবেন না।  মাধ্যমে আপনি কখনো মিলিয়নিয়ার হতে পারবেন। নিজের ক্যারিয়ার যে গড়তে পারবেন তা কিন্তু না। তবে এর মাধ্যমে ভালো এক্সপেরিয়েন্স আসবে। কাজে দক্ষতা আসবে। যদি আপনি একজন প্রোগ্রামার হতে চান, তা সুফল বয়ে আনবে। এবং কাজের এক্সপিরিয়েন্স বাড়বে।


৬। একটি ব্লগ সাইট তৈরি করে নিন।

আসলে অনলাইনে যে জরিপ পূরণ করা হয় এবং ওয়েবসাইট টেস্ট করার মাধ্যমে উপার্জন হয় তা সাময়িক। অর্থাৎ এটি আপনাকে অনলাইনে উপার্জন করার সাধ দিবে। কিন্তু আপনার ক্যারিয়ার গড়তে একটু সাহায্য করবে না।


ব্লগারদের তুচ্ছ করে দেখা উচিত না।

একবার তাকান আন্তর্জাতিক ব্লগারদের দিকে। যাদের ব্লগ পুরো বিশ্ব পড়ছে। বড় বড় ব্লগাররা এমনও আছে, যে মাসে মিলিয়ন ডলার পর্যন্ত উপার্জন করে নিতে পারে। এটা যে একেবারেই ভুল হয়ে গেল তা কিন্তু না। ব্লগাররা ইউটিউব মার্কেটপ্লেসের বিভিন্ন ইউটিউবারদের মতই সেলিব্রেটি। তাদের ব্লগ গুলো পুরো বিশ্ব পড়ে। এবং তারাও বিভিন্ন স্পন্সর পোস্ট ও অ্যাডভার্টাইজমেন্ট করতে পারে। তাদের মনিটাইজে যত আয় হয়, ইউটিউবের মনিটাইজেশনে তো তত আয় হয়না। 


ব্লগারদের উপার্জন কত?

একজন ব্লগারের উপার্জন ০ থেকে শুরু করে মিলিয়ন পর্যন্ত হতে পারে। বাংলাদেশি প্রেক্ষাপটে সর্বোচ্চ দুই থেকে আড়াই লাখ। তারাও এফিলিয়েট প্রোডাক্ট বিক্রি করতে পারে। বড় বড় ফাইনান্সিয়াল ব্লগাররা মিলিয়ন ডলার উপার্জন করতে পারে। এটা ভুল হতে পারে না। 

কারণ একেকটি ফাইন্যান্সের ওয়েবসাইটে মাসিক 50000 ভিও হলে গ্যারান্টি সহকারে কেবল এডসেন্স থেকে 15 হাজার ডলার উপার্জন করা যায়। যেখানে এফিলিয়েট লিংক যুক্ত করলে ইনকাম হবে এডসেন্সের ১০ গুণ।য


ব্লগিং করার জন্য কি কি দক্ষতা থাকা চাই?

ব্লগ তৈরি করার জন্য একটু-আধটু টেকনিক্যাল এক্সপেরিয়েন্স থাকলে ভালো। তবে ব্লগিং বা কন্টেন্ট করার জন্য কোন রকমের টেকনিক্যাল এক্সপেরিয়েন্স থাকতে হয় না। আপনি কোডিং বা ওয়েবসাইট ডেভেলপ সম্বন্ধে অতটা না জানলেও হবে। শুধুমাত্র আর্টিকেল লেখালেখি নিজের বক্তব্য, কিংবা লেখাগুলো ফুটিয়ে তোলার দক্ষতা থাকলেই চলবে। ব্লগিং করার মাধ্যমে একটি সুনির্দিষ্ট বিষয়ে লেখালেখি করতে হয়। বিভিন্ন তথ্য উপস্থাপন করতে হয়। যাতে মানুষ জেনে উপকৃত হতে পারে। অনলাইনে ইনকাম মোবাইল দিয়ে ২০২১ সালে এসে ব্লগিং নির্ভরও কিছুটা হয়েছে।


মানুষ নতুন কিছু জানতে পারে। এবং নিজের দৈনন্দিন জীবনে ব্যবহার করতে পারে। ব্লগিং করা নিয়ে আমি একটু বিস্তারিত আর্টিকেল লিখেছি। সেটি পড়তে নিচে দেখুন👇👇

ব্লগিং কি? কিভাবে শুরু করবেন| ব্লগিং করে আয়।



ব্লগ সাইট তৈরি করা নিয়ে কিছু কথাঃ

ব্লগিং তৈরি করার জন্য ফ্রী ব্লগার প্লাটফর্ম ব্যবহার করা যায়। যার মধ্য আছে গুগল ব্লগার ( Blogger)। তবে যদি প্রফেশনাল একটি ব্লগ সাইট খুলতে চান, যেটি সার্চ রেজাল্টে ভালো র‍্যাংক করবে ও ভালো ভিজিটর আসবে। এবং ওয়েবসাইটটিতে পড়তেও ভালো অনুভব হবে। তবে অবশ্যই ওয়ার্ডপ্রেস বা অন্যান্য সিএমএস ব্যবহার করে ব্লগিং সাইট তৈরী করা উচিত।

এবার বলি ব্লগিং করা থেকে কিভাবে উপার্জন করতে পারবেন। 


  • প্রথমত ওয়েবসাইট মনিটাইজ করে উপার্জন করা যায়। তার জন্য আছে এডসেন্সের মতো বড়-বড় মার্কেটপ্লেস। একজন ব্লগার নিজের ওয়েবসাইট মনিটাইজ করার মাধ্যমে ভালো পরিমাণে উপার্জন করতে পারে। 

  • এছাড়াও অ্যাফিলিয়েট প্রোডাক্ট প্রমোট করার ব্যাপারে লেগে পড়ুন। যদি সফল হতে পারেন, তবে মাসে লাখ লাখ টাকা উপার্জন করা কঠিন হবে না।
  • আরো আছে স্পন্সর পোস্ট। ভাল ব্লগার ওয়েবসাইটে চায় স্পন্সর পোস্ট করার জন্য। 
  • আবার নিজস্ব ব্লগ সাইট ব্যাকলিংক ও ডোমেন অথোরিটি যদি ভালো থাকে, তাহলে  ব্যাংকলিংক বিক্রি করার মাধ্যমে উপার্জন করা যায়। যে কোন ওয়েবসাইটকে ব্যাক লিংক দিবেন টাকার বিনিময়ে।


কাজেই বুঝতে পারলেন যে, আসলে একটি ব্লগার ওয়েবসাইট থেকে অনেক ভাবেই উপার্জন করা সম্ভব। 

পড়ুনঃ 



কোন ভাষায় ব্লগিং করবেন?

বলে রাখা ভালো ইংরেজি ব্লগ সাইটে বেশি উপার্জন করা যায়। কারণ ইংরেজি ব্লগ সাইটে পুরো পৃথিবী থেকে ভিজিটর আসে। বিভিন্ন ভৌগলিক স্থানের তার উপর ভিত্তি করে বেশি বেশি উপার্জন দেয়া হয়। কিন্তু বাংলা ব্লগ সাইটে শুধু বাংলাদেশ এর ভিজিটরই কামনা করা উচিত। তবে হ্যাঁ, অসংখ্য বাংলা ব্লগার আছেন। যারা সফল হয়েছেন। এবং মাসিক ভালো ইনকাম করছে।


এছাড়া একটি ব্লগিং ওয়েবসাইট যত বেশি ভিজিটর কালেক্ট করতে পারবেন, বিশেষ করে মার্কেটিং করে যত ভিজিটর পাবেন। তত বেশি উপার্জন করতে সক্ষম হবেন।



৭। একটি এফিলিয়েট ওয়েবসাইট তৈরি করুন।

যেমনঃ আমাজন প্রডাক্ট কে ভিত্তি করে করে তৈরি করতে পারেন।

একটি সুন্দর ও সফল অ্যাফিলিয়েট ওয়েবসাইট তৈরি করতে আপনাকে যথেস্ট টাকা ব্যয় করতে হবে। কিছুটা হলেও ইনভেস্ট করা লাগবে। অ্যাফিলিয়েট ব্লগগুলোতে কিছু স্পেসিফিক  পণ্যের উপর ভিত্তি করে লেখালেখি করা হয়। বেশিরভাগ ব্লগ সাইটে সাধারণত প্রোডাক্টের রিভিউ দেখা যায়। 

অ্যাফিলিয়েট ব্লগ থেকে কেন বেশি উপার্জন করা যায়?

যেকোনো ব্লগ সাইটে অর্গানিক ভিজিটর, অর্থাৎ সার্চ ইঞ্জিনের মাধ্যমে যে সকল ভিজিটর ব্লগে আসে। তাদেরকে সর্বোচ্চ দেখা হয়। সে দিক থেকে সার্চ ইঞ্জিনে তারা একটি প্রোডাক্ট সম্পর্কে সার্চ দেয়, যারা পরবর্তীতে প্রোডাক্টটি ক্রয় করবে। আর এফিলিয়েট ব্লগে যেহেতু প্রোডাক্টের রিভিউ থাকে। কাজেই এই ব্লগে যে কেউ কোন একটি প্রোডাক্ট ক্রয় করার জন্য রিভিউ দেখতে আসে।


এখন সে চাইলে সে প্রোডাক্টটি ক্রয় করার জন্য আসতেও পারে। সে দিক থেকে একটি ব্লগ সবসময় চেষ্টা করে নিজস্ব কোনো এফিলিয়েট লিংক রিভিউ এসে এড করে দেয়ার জন্য। যার মাধ্যমে দেখা যায়, পণ্যটি যদি ক্রয় করা হয়, তাহলে তার থেকে কিছু একটা মুনাফা কিংবা প্রফিট অর্জন করবে। আর সেখান থেকে ভালো পরিমাণে উপার্জন করতে পারবে।


অ্যাফিলিয়েট ব্লগ গুলো কিভাবে লিখবেন?

নিজ থেকে কোন প্রোডাক্টের ভালো রিভিউ লিখে রাখা সম্ভব। তার জন্য অবশ্যই সে প্রোডাক্ট এর নিজস্ব ওয়েবসাইট থেকে তথ্যগুলো সংগ্রহ করে নেবেন। এবং সে সম্বন্ধে নিজের মতো করে গুছিয়ে লিখবেন। অথবা অন্যান্য রাইটারদের থেকে হায়ার করে লিখতে পারেন।


অনলাইনে প্রায় মিলিয়ন প্রোডাক্ট আছে। যেগুলো প্রতিনিয়ত বিক্রি হচ্ছে। সে সকল প্রোডাক্ট এর রিভিউ যদি আপনি সার্চ ইঞ্জিনের নিতে পারেন এবং সাথে লিংক থাকে। তাহলে সেখান থেকে উপার্জন করা সম্ভব।যে কোনো কোম্পানি তাদের প্রোডাক্ট গুলোর এফিলিয়েট লিংক দেয়ার জন্য যেকোনো ব্লগের সাথে কানেক্ট থাকতে চায়।


শত শত এমনকি হাজার হাজার এফিলিয়েট প্রোগ্রাম অনলাইনে অ্যাভেলেবল আছে। তবে সম্ভবত অ্যামাজন অ্যাসোসিয়েট প্রোগ্রামের মাধ্যমে প্রথম যাত্রা শুরু করা উচিত। অ্যামাজন আপনাকে সবচেয়ে ভাল কমিশন দিবে যে কোন প্রোডাক্ট বিক্রয় করার জন্য।



৮। অনলাইন শপ লঞ্চ করুন।


অনলাইন শপের দাপট বিশ্ববাজারে!

Digital Commerce 360 এর একটি পরিসংখ্যানে জানা গেছে, ই কমার্স ওয়েবসাইটগুলোতে 2019 সালে 3 দশমিক 5 ট্রিলিয়ন ডলার বাজেট ছিল। অনলাইন শপ লঞ্চ করে অনলাইনে ইনকাম মোবাইল দিয়ে ২০২১ করা যায়।

তো বুঝতেই পারলেন ই-কমার্স কিংবা অনলাইন শপ ব্যাপক পরিসরে জনপ্রিয়তা পেয়েছে। অনলাইন শপ গুলোতে প্রডাক্ট বিক্রির হার অনেক বেড়ে গিয়েছে।


সফল হওয়ার উপায়ঃ অনলাইনে ইনকাম মোবাইল দিয়ে ২০২১

একটি সফল অনলাইন শপ দাঁড় করানোর জন্য ব্যাপক পরিশ্রম করতে হয়। পাশাপাশি ভালো রকমের ইনভেস্টমেন্ট থাকা চাই। তাহলে পরবর্তীতে সেখান থেকে উপার্জন করা যায়।


নিজেকে এমন ভাবে তৈরি করুন, যাতে করে অনলাইন শপ এর প্রোডাক্ট গুলো সম্বন্ধে ভালো রকমের রিসার্চ থাকে। সেগুলো কে ডিজিটাল মার্কেটিং করানো যায়। এবং সেখানে নিজের প্রোডাক্ট বিক্রি করানো যায়। যেহেতু এটি নিজস্ব কিংবা প্রোডাক্টগুলোর মার্কেটিং নিজের তাই  বিজনেস টু কনসিউমার (B2C) মার্কেটিংয়ের দিকে নজর দিতে হবে।

তার জন্য ইমেইল মার্কেটিং করা যেতে পারে। সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন এর পাশাপাশি সোশ্যাল মিডিয়াতেও করাতে হবে। সেক্ষেত্রে পেইড ও ফ্রী উভয় ধরনের মার্কেটিং করানো যাবে। ডিজিটাল মার্কেটিং সম্বব্ধে বিস্তারিত জানতে নিচের ব্লগ পড়ুনঃ

ডিজিটাল মার্কেটিং শিখুন।


অনলাইনে ই-কমার্স শপিং প্লাটফর্ম এর অভাব নেই।  Shopify এবং WooCommerce শপিং প্লাটফর্ম গুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য। সেখান থেকে ভালো রকমের ধারণা নিতে পারেন।


Shopify অনলাইন শপিং করার জন্য নিজস্ব ওয়েবসাইট বানাতে সাহায্য করে। শপিফাই আপনার জন্য ব্যাপক গুরুত্ব বহন করবে। এজন্য মাসিক 29 ডলার পে করতে হবে। এবং নিজস্ব ওয়েবসাইট ই-কমার্স ওয়েবসাইট এর মত করে সাজানো যাবে।



WooCommerce হলো ওয়ার্ডপ্রেস প্লাগিন। ওয়ার্ডপ্রেস সিএমএস -য়ে যদি আপনার ওয়েবসাইট থাকে, তবে প্লাগিন ব্যবহার করে অনলাইন ডিল, পারচেজ, ডাউনলোড এর মত সুবিধা দিবে WooCommerce ফ্রি প্লাগ-ইন। এটি আপনার ওয়েবসাইটকে ই-কমার্স ওয়েবসাইট এর মত অফিশিয়াল লুক দিবে।

কোন প্লাটফর্ম আপনার অনলাইন শপিং সাইট দাড় করানোর জন্য যথেষ্ট হবে, সেটি জানতে দয়া করে শপিফাই বনাম ওয়ার্ডপ্রেস আর্টিকেল লিখে সার্চ করে জানুন। Shopify Vs Wordpress Plugin




৯। Amazon, eBay, Etsy ও অন্যান্য সাইটে প্রোডাক্ট বিক্রি করুন।


যখন একটি অনলাইন শপ লঞ্চ করবেন, সেখানে অ্যাডমিনিস্ট্রেশন ও পরিচালনা করার জন্য ব্যাপক সময় ও পরিশ্রম ব্যয় হবে। অথচ অ্যামাজন, ইবে এর মত সাইটগুলোতে নিজস্ব প্রোডাক্ট সেল করলেই তো হয়। সেখান থেকেও তো প্রফিট অর্জন করা যায়। তাহলে কেন নিজস্ব অনলাইন শপিং সাইট ব্যবহার করতে যাবেন? বাংলাদেশে ইভ্যালি, দারাজ এসব ওয়েবসাইটে নিজস্ব প্রোডাক্ট বিক্রি করার মাধ্যমে উপার্জন করা যায়।

 

নিজের শপিং সাইট কিংবা ফেসবুক শপিং ওয়েবসাইট তৈরি করার জন্য ভালো রকমের ক্যাম্পিং ও এডভারটাইজিং বাজেট লাগে। তা না জানা থাকলে আর কোনো গুরুত্বই থাকে না। কাজেই এর চেয়ে ভালো হয় অ্যামাজন, দারাজ এর মত সাইটে নিজস্ব পণ্য কেনাবেচা করা। 



১০। জব-বোর্ড সাইট তৈরি করুন।

আপনার কাছে প্রশ্ন আসতে পারে যে, কি ধরণের ওয়েবসাইট long-term আয় করার জন্য বেশ ভালো হবে?


যদি ইন্টারনেট মার্কেটিং-য়ে আপনার বিশেষ এক্সপেরিয়েন্স থাকে। তবে নিঃসন্দেহে উত্তর হবে জব বোর্ড। এর মানে কি?

বর্তমান প্রেক্ষাপটে চাকরির অনেক গুরুত্ব রয়েছে। যে কেউ কোন একটি চাকরির সার্কুলার খুঁজে দেখতে চায়। যাতে সে সেখানে জয়েন করতে পারে। গুগলে চাকরি কিওয়ার্ডে অর্থাৎ জব রিলেটেড কিওয়ার্ডে প্রচুর সার্চ হয়। যদি আপনি একটি জব বোর্ড তৈরি করতে পারেন, যেখানে নিজের জব সার্কুলার পাবলিশ করবেন বিভিন্ন জায়গা থেকে জব ও নোটিশ দিতে পারবেন।


জব কোম্পানির সাথে ডিল করবেন। যে এখান থেকেও আপনার জব কম্পিটিটর যাবে। আপনার জবের জন্য এপ্লাই করার জন্য। তাহলে এভাবে একটি নিজস্ব জব বোর্ড তৈরি করা যায়। একবার যদি জব বোর্ডের প্রযুক্তি সম্পন্ন হয়, তবে এটি আপনার long-term উপার্জনের প্রধান ব্যবস্থা হবে।


RemoteOk, ঠিক এমন একটি ইংরেজী জব বোর্ড ওয়েবসাইট। এই ওয়েবসাইটে বাৎসরিক কত আয় হয় আপনি জানলে অবাক হবেন। প্রায় 1 মিলিয়ন ডলার।  

ওয়ার্ডপ্রেস প্লাগইন ব্যবহার করে জব বোর্ডের অফিসিয়াল লুক পাওয়া যাবে।




১১।মেম্বারশিপ ওয়েবসাইট তৈরি করে ইনকাম।


সাধারণত গুগল সার্চ অ্যাভেলেবল সকল ব্লগার ওয়েবসাইট ফ্রী। সেখানে ফ্রিতে অ্যাক্সেস করা যায়। কোন ধরনের টাকা পে করতে হয় না। এবং সে ব্লগ গুলো পড়েও ফ্রী উপকৃত হওয়া যায়। 


শুধুমাত্র মনিটাইজেশন এর মাধ্যমে ঐসব ওয়েবসাইটের ব্লগারদের উপার্জন হয়। এছাড়া স্পন্সর পোস্ট অথবা অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিংয়ের মাধ্যমে উপার্জন আসে।


মেম্বারশিপ ওয়েবসাইট বা ব্লগ সাইটের একটি বিশেষ দিকঃ 

এখানে যে সকল পাঠকরা আসে, তারা মেম্বারশিপ কিনতে হবে। সে মেম্বারশিপ অনুযায়ী তারা অ্যাক্সেস করতে পারবে। এবং সেগুলো পড়তে পারে। এখন প্রশ্ন হলো, 


কেন একজন পাঠক একটি মেম্বারশিপ ওয়েবসাইটে যাবে? 

যেখানে ইন্টারনেটে ফ্রি ওয়েবসাইট আছে। এবং সেখানেও ব্লগিং করা হয়। উত্তর হলো একটি মেম্বারশিপ ওয়েবসাইট যেমন তেমন ওয়েবসাইট নয়। এটি একটি মানসম্মত ব্লগ সাইট। যেখানে প্রতিনিয়ত তথ্য আপডেট করা হয়। এবং সেই তথ্যগুলো ছোটখাটো নয়, বরঞ্চ ব্যাপক আকারে লেখালেখি হয়। যারা কোন বিষয়ে অভিজ্ঞ হতে চায় তাদেরকে সম্পূর্ণ এক্সপার্ট করার পরামর্শ দেয়া হয়।


লেখালেখির মাধ্যমে বুঝানো হয়। বিভিন্ন রিসার্চ কনটেন্ট এড করা হয়। সেখানে একজন ব্লগার নিজের রিসার্চ করা কন্টেন্ট পাঠকদেরকে দেখায়। অনেক পরিশ্রমের বিনিময়ে একটি সুন্দর কনটেন্ট উপহার দেয়। আর যার জন্য মেম্বারশিপ ওয়েবসাইটে পাঠকদের অবশ্যই মেম্বারশিপ কিনতে হয়। কারণ সেই ব্লগগুলোর আর্টিকেলগুলো অতিব মূল্যবান।


বাংলাদেশকে মেম্বারশিপ ওয়েবসাইট বা ব্লগ সাইট তৈরি করা সম্ভব?

জি না। আদৌ সম্ভব না। যদি নিজস্ব মেহনত দিয়ে এরকম একটি ওয়েবসাইট বা ব্লগ সাইট তৈরি করতে চান, তবে সেখানে পাঠক পাবেন না। কারণ তারা ফ্রী ব্লগ সাইটগুলোতে যাবে। যেখানে অ্যাক্সেস করতে কোন টাকা লাগে না। কিন্তু বৈদেশিক ওয়েবসাইটগুলোতে ঠিক তার ভিন্ন। বেশিরভাগ বৈদেশিক নেটিজেন কিছু জানতে মেম্বারশিপ সাইটে জয়েন করার জন্য আবদার রাখে। 


কারণ ফ্রী ওয়েবসাইট গুলো থেকে সেখানে আরও বিশেষ কিছু জানতে পারবে। এবং বুঝতে সুবিধা হবে। তবে কোন সমস্যা নেই। আগামী ভবিষ্যতে মেম্বারশিপ ওয়েবসাইটগুলোর জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পাবে। কারণ সেখানে ভালো ও মানসম্মত লেখালেখি হয়। যেগুলো আমরা ফ্রি ব্লগ সাইটগুলোতে পাবো না।

এবার বলি ,

একটি ফুল মেম্বারশিপ ওয়েবসাইট কি ধরনের কন্টেন্ট অন্তর্ভুক্ত রাখে?

প্রথমত ই-বুক,লিপিবদ্ধ বিভিন্ন মূল্যবান বই সেখানে পাওয়া যায়। এছাড়া একটি বিস্তারিত টিউটোরিয়াল ও কনটেন্ট মার্কেটিং সম্বন্ধে জানা যায়। কন্টেন্ট টিউটোরিয়াল আকারে প্রকাশ করা হয়। যেগুলো অতীব মূল্যবান। যে কোন একটি বিষয়ে দক্ষ লোকজনের অভাব থাকে না। সেখানে ডিসকাশন করার উপায় আছে।


কিছু কিছু দামি মেম্বারশিপ ওয়েবসাইটগুলোতে মাসিক 99 ডলারে করে ফুল মেম্বারশিপ নেয়া হয়। অন্যান্যদের ক্ষেত্রে এটি আরো কম হতে পারে। যেমনঃ বাতসরিক ১০ ডলারের বিনিময়েও মেম্বারসিপ দেয়া হয়।


একটি মেম্বারশিপ ওয়েবসাইট তৈরি করার জন্য সর্বোত্তম হলো ওয়ার্ডপ্রেস। কারণ সেখানে বিভিন্ন প্লাগইন ব্যবহার করা যায়। মানসম্মত ওয়েবসাইট তৈরি করা যায়। ওয়েবসাইটে প্রফেশনাল করতে ওয়ার্ডপ্রেসে ওয়েবসাইট স্ট্যান্ড করানো বেস্ট। 



১২। অনলাইন কোর্স লঞ্চ করুন।


অনলাইন লার্নিং ইন্ডাস্ট্রির বাজারমূল্য বিলিয়ন ডলার। বুঝতে কষ্ট হতে পারে। কিন্তু বিষয়টি খুবই সহজ। অর্থাৎ অনলাইনে কোন কিছু শেখা বা কাউকে শিখানো এব্যাপারে যতগুলো ইন্ডাস্ট্রি ওয়েবসাইট তৈরি হয়েছে, তাদের সবগুলোর বাজারমূল্য কয়েক বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত যায়। 


নিজস্ব কোন কোর্স থাকলে সেটি আর্টিকেল আকারে হলেও চলবে। তবে ভিডিও হলে বিভিন্ন ওয়েবসাইট নিতে চাইবে। সে কোর্স সেল করে ভালো পরিমাণে উপার্জন করা যায়। অনলাইনে উপার্জন, মার্কেটিং, ফ্রিল্যান্সিং, ফাইবারে গিগ মার্কেটিং, পডকাস্ট তৈরি, গ্রাফিক ডিজাইনিং, ওয়েব ডেভলপমেন্ট, ওয়েবসাইট ডিজাইন এসব নিয়ে কোর্স নিয়ে লাখ লাখ কাস্টমাররা উপকৃত হয়।


ক্লায়েন্টদের বুঝতে সুবিধা হয়, যদি তারা সহজেই অনুধাবন করে এক্সপার্ট হতে পারে, তবে আপনার কোর্সটি অনলাইন মার্কেটপ্লেসগুলোতে সফল হবে। সেখান থেকে মাসিক 1000 ডলার পর্যন্ত উপার্জন করা যাবে খুব সহজেই।কোর্স তৈরি করে অনলাইনে ইনকাম মোবাইল দিয়ে ২০২১ সালে করা সহজ।


উদেমি এর কথা বলি। উদেমি একটি অনলাইন লার্নিং প্লাটফর্ম। যদিও এখানে বর্তমানে কোর্স প্রচুর পরিমাণে অ্যাভেলেবল আছে। এখানে কোর্সের পরিমাণ লক্ষাধিক।  


উদেমি আপনার কোর্সের কমিশনের 50 ভাগ নিয়ে নেয়াটা এলাও করে। এবং সেখানে কোর্স কাস্টমারদের সামনে নিয়ে আসা অনেক বেশি কম্পিটিটিভ মানে প্রতিযোগিতাপূর্ণ।

যদি আপনার যথেষ্ট সোশ্যাল মিডিয়া ফলোয়ার্স থাকে, অথবা প্রতিষ্ঠিত ব্লগ সাইট থাকে, তবে উদেমির মতো অনলাইন মার্কেটপ্লেসে যাওয়ার দরকার নেই। নিজের ব্লগ সাইট ব্যবহার করে বিক্রি করা শুরু করে দিন।


১৩. গেম স্ট্রিমিং করে ইনকাম।

আপনারা যারা এই আর্টিকেলটি পড়ছেন, তাদের মধ্যে অনেকেই আছেন যারা গেম খেলেন। অনলাইন গেম খেলা পছন্দ করেন। তাদের জন্য এই ব্যাপারটি অনেক মজাদার হবে। কারণ গেম খেলে উপার্জন করা অহেতুক কোন বিষয় নয়। 


আমি কোন ভাবে বুঝাতে চাচ্ছি না যে, ছোটখাট ভিডিও দেখে, অ্যাপ্লিকেশন গেম খেলে উপার্জন করা যায়। অথবা লুডু খেলে উপার্জন করা যায়। আমি এটা বলতে চাচ্ছি, অনলাইন মাল্টিপল জনপ্রিয়তা আছে এমন কোনো গেম থেকে উপার্জন করা সম্ভব। 

পড়ুনঃ গেম খেলে টাকা আয় বিকাশে


তবে যেকোনো ধরনের গেইমের রিভিউ, স্ট্রিমিং দেখিয়ে বেশি উপার্জন করা সম্ভব। যার শ্রেষ্ঠ উদাহরণ হলো PiwDiePie।  তার সম্বন্ধে জানে না, এরকম হতে পারে না। ইউটিউব দুনিয়ায় সবচেয়ে বেশি সাবস্ক্রাইবার হোল্ড করে আছে ভারতের t-series। 


t-series এর পূর্বে PiwDiePie ছিল সাবস্ক্রাইবার এর দিক থেকে এক নম্বর। PiwDiePie ইউটিউব চ্যানেলটি বর্তমানে দুই নম্বর চলে এসেছে T-series এর কারণে।

ইউটিউব বিভিন্ন ধরনের গেম স্ট্রিমিং করে, সেখানে এন্টারটেইনমেন্ট করে, একাধিক গেম খেলে এবং সেখান থেকে ভালো রকমের সাবস্ক্রাইবার অর্জন করতে পারে। পাশাপাশি মাঝে মাঝে বিভিন্ন লিঙ্ক এর সাথে এডজাস্ট আছে। এবং মাসিক মিলিয়ন ডলার পর্যন্ত উপার্জন করতে পারে। ইউটিউবে গেমস, সুপার চ্যাট করার অপশন আছে। সেখানে সুপার্চাট প্রচলন করে ডোনেশন নিতে পারবেন। উপার্জন করতে পারবেন।

পড়ুনঃ


বিভিন্ন লাইভ স্ট্রিমিং সাইট, যেমনঃ Nimo TV তে লাইভ স্ট্রিমিং করে উপার্জন করা যায়। আপনার যত বেশি ফলোয়ার্স হবে, সেখান থেকে তত অর্থ উপার্জন আসবে।


XBox One এবং PS4 পারসেজ থাকলে গেমপ্লে করার অভাব থাকবে না। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে বড় বড় গেমাররা স্পন্সর করে, টি-শার্ট ও অন্যান্য প্রোডাক্ট বিক্রি করে ভালো উপার্জন করে।


শেষকথাঃ

ব্লগটি কেমন লাগলো আপনার? ভালো লাগলে আমাদের আরো কতগুলো ব্লগ পড়ে যাবেন। আর হ্যা, অনলাইনে ইনকাম করার উপায় ২০২১ সম্বন্ধে জানতে আমার ব্লগটি সবসময় ভিজিট করবেন। ধন্যবাদ।


-----খোদা---হাফেজ-----


Naimul Islam

নাইমুল ইসলাম Expert Bangladesh এর Founder এবং Owner। সে অবসর সময়ে ব্লগিং ও লেখালেখি করতে ভালোবাসে। একইভাবে অনলাইনে নতুন কিছু শেখা তার প্রধান শখ।

2 Comments

কমেন্ট করার মিনতি করছি। আমরা আপনার কমেন্টকে যথেস্ট মূল্য প্রদান করি। এটি আমাদের সার্ভিসের অংশ।

তবে কোনো ওয়েবসাইট লিংক প্রকাশ না করার অনুরোধ রইল।

Previous Post Next Post