এড দেখে টাকা ইনকাম কি হালাল

আজকে আমরা জানব, এড দেখে টাকা ইনকাম করা কি হালাল নাকি হারাম? আমরা অনেকেই অ্যাড দেখে টাকা আয় করার চিন্তা ভাবনা করি। যদি কিভাবে এড দেখে বিকাশে টাকা নিতে হয় তা সম্বন্ধের না জানেন তাহলে নিচের ব্লগটি পড়তে পারেন। সেখানে আমি এড দেখে টাকা ইনকাম করার ব্যাপারে অনেক কিছুই বলেছি।

তবে হ্যাঁ, ঐ ব্লগ পড়ার পূর্বে আমার এই সম্পূর্ণ ব্লগটি পড়ে নিন। যাতে করে আপনি হালাল পথে আয় করছেন, নাকি হারাম পথে আয় করছেন তা সম্বন্ধে ভালো জানতে পারেন।


এড দেখে টাকা ইনকাম কি হালাল?

অনলাইনে এড দেখে সবাই ছোটখাটো উপার্জনের পথ বের করে নিতে চাচ্ছি। সবাই চাই যে, এড দেখে যদি অনলাইনে বসে বা ঘরে বসে কিছু আয় করা যায়, তাহলে মন্দ কি? তার আগে আপনাকে জেনে নেয়া উচিত যে, অনলাইনে এড দেখে আয় করা কি হালাল নাকি হারাম?

এড-দেখে-টাকা-ইনকাম-করা-কি-হালাল


হালাল, হারাম কী?

হালাল বলতে আমরা বৈধ কাজকে বুঝিয়ে থাকি। ইসলামে যে সকল কাজ বৈধ, তাই হালাল। আর হারাম বলতে বোঝায় ইসলামে যে সকল কাজ করতে নিষেধ করা হয়েছে কিংবা অবৈধ।

সে অনুযায়ী এড দেখে টাকা ইনকাম হালাল নাকি হারাম আজকে আমরা বুঝবো। 

কোন একটি কাজ তখনই হারাম হবে, যখন ঐ কাজের মধ্যে ইসলামের শরীয়ত অমান্য করা হবে। এবং শান্তির ধর্ম ইসলামের নিয়ম নীতি কে উপেক্ষা করা হবে। যে সকল কাজের মধ্য দিয়ে মানব ক্ষতি সাধিত হয়, সেগুলোও একেকটি হারাম কাজ। 

d

অ্যাড দেখে টাকা আয় করার অনেক ধরনের পদ্ধতি আছে। আপনি কোন জায়গার এড দেখে আয় করছেন সেটাও দেখার বিষয়।


এড দেখে টাকা আয় করা কখন হালাল হবে? 

সাধারণ উপায় যদি আপনি এড দেখে এমন ভাবে আয় করেন, যাতে করে আপনার কিছু উপার্জন হচ্ছে। পাশাপাশি যে আপনাকে আয় করার ব্যবস্থা করে দিচ্ছে, তারও কিছু উপার্জন হচ্ছে। পাশাপাশি যে সকল কোম্পানী বা প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দেখে আপনারা আয় করছেন সে সকল কোম্পানির ও প্রতিষ্ঠান লাভবান হচ্ছে। তাহলে এরকম প্রক্রিয়ায় এড দেখে আয় হারাম হওয়ার কোন উপায় থাকেনা। 

যদি না ঐ সম্পূর্ণ পদ্ধতিতে কোন প্রকার অশ্লীল, অশালীন কিংবা গর্হিত কাজ সাধিত না হয়।

যদি এড দেখে আয় করার সময় আপনার মনে হয় যে, বিভিন্ন অশালীন নারীর ছবি দেখিয়ে, যৌনতাপূর্ণ অ্যাড দেখানো হচ্ছে। এবং সেটা দেখে আপনি আয় করছেন। তবে সাথে সাথেই সেখান থেকে বিরতি নেয়া উচিত। কিংবা সে জায়গা বা কাজ ত্যাগ করে হালাল পথে চলে আসা উচিত। এমতাবস্থায় অবশ্যই আল্লাহর কাছে তওবা করে ঐ ওয়েবসাইটের এড না দেখার ওয়াদা নিয়ে সঠিক পথে চলে আসা উচিত।

যদি এমন হয়, আপনি ঐ ওয়েবসাইটে এড দেখে আয় করছেন, যেটিতে আগে থেকেই কোন প্রকারের অশালীন, গহিত লেখালেখি না থাকে। তাহলে সে জায়গায় কাজ করে আয় করাটা মোটেও মন্দ হবে না। এড দেখানো বলতে আমরা বুঝে থাকি যে কোনো কিছুকে জনসম্মুখে প্রমোট করা। সকলের সামনে নিয়ে আসা, যাতে তাদের সম্বন্ধে মানুষেরা জানতে পারে।

আমরা জানি, বিভিন্ন প্রতারকেরা অ্যাড দেখিয়ে মানুষকে বিপথগামী করার জন্য ফন্দি আটে। ধরে নিলাম, আপনি কোন একটি ওয়েবসাইটে এড দেখে আয় করছেন। সেখানে কিছু এড এরকম হতে পারে, যেটি দেখে আপনি খুব আকৃষ্ট হলেন। সে এডের প্রতি আপনি নিজে নিজেই ইন্টারেস্টেড অনুভব করলেন। পরবর্তীতে সে এডে দেখানো বিভিন্ন কাজ করে আপনি প্রতারণার শিকার হলেন। এতে করে যে আপনার সাথে প্রতারণা করেছে, সে যেমন দোষী সাব্যস্ত হবে। আপনি ওই প্রতারণাকারীকে সায় দিয়েছেন। ইসলামী বিধি অনুযায়ী আপনার কাজটাও সঠিক বলে মনে হয় না। উল্টো আপনি যদি সবাইকে ওই সব এড দেখে আয় করার ব্যাপারে সচেতন করে তোলেন। তাহলে তা আপনার জন্য কল্যাণকর ও মঙ্গলজনক হতে পারে।


এড দেখে আয় করা কখন হারাম হবে?

যদি কোন একটি ওয়েবসাইটে বিভিন্ন অশ্লীল  গর্হিত, যৌনতাপূর্ণ অ্যাড দেখানো হয়। অর্থাৎ অনৈতিক কাজকর্ম থাকে এরকম বিভিন্ন অ্যাড দেখানো হয়ে থাকে। তাহলে সে জায়গায় এড দেখে আয় করাটা মোটেও হালাল হবে না। আপনার উচিত, সে জায়গার এড না দেখে তা থেকে বিরত থাকা। তাছাড়া এমন অসংখ্য ওয়েবসাইট আছে। যেগুলো অ্যাড দেখানোর পাশাপাশি, আপনাকে ওই ওয়েবসাইটটি প্রমোট করার জন্য রেফার করতে বলে। 

ঐ ওয়েবসাইটটি যদি কোন স্ক্যাম অথবা প্রতারকের ওয়েবসাইট হয়। পরবর্তীতে আপনি বিভিন্ন লোকের কাছে সেটি রেফার করেন। তবে এটি আপনার জন্য হারাম হবে। এবং আপনি গুনাহর শিকার হবেন। কারণ সকল কাজ করার পূর্বে সচেতনতা প্রয়োজন। আপনি সচেতন না হয়ে কোনো কাউকে কোনো ওয়েবসাইট সম্বন্ধে রেফার করতে পারেন না।

এমনিতে অ্যাড দেখা আয় করাটা মোটেও হারাম হবে না, যদি না তার মাধ্যমে কোনো অনৈতিক কাজ সম্পন্ন না হয়। অনেক পিটিসি সাইট আছে যেগুলো আমাদের মত, আপনার মত বিভিন্ন গ্রাহককে প্রলোভন দেখায় যে, তার দেয়া এড বিভিন্ন মানুষের কাছে শো করানো হবে। আর সে মানুষজন হলো আমরা আপনারা। যারা এড দেখে আয় করতে চাই। আমাদের একমাত্র লক্ষ্য হলো আমরা কোনো মতে এড দেখব,  আর আয় করব। যার কারণে আমরা এড দেখি এবং সেটিতে ক্লিক করি। কিন্তু সে এড এর প্রতি কোন ইন্টারেস্ট অনুভব করি না। 

কারণ আমরা শুধুমাত্র আয় করতে এসেছি। এতে করে ওই ওয়েবসাইটের মালিক যেসকল গ্রাহক কে আনলো তাদের কাছে টাকার বিনিময়ে এড পাবলিশ করার জন্য। ঐ সকল গ্রাহক প্রতারিত হয়েছে। আর এরকম কাজ-কর্ম করা ইসলামের সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। যার কারণে ওই ওয়েবসাইটে কাজ করা আমার কিংবা আপনার জন্য সম্পূর্ণ হারাম।

কিছু কিছু ব্র্যান্ডিং পিটিসি সাইট আছে। যেগুলোতো বড় বড় কোম্পানিরা  নিজ থেকেই বিভিন্ন সিপিএ মানে হল কোস্ট পার একশন ধরনের এড শো করায়। ঐ ওয়েবসাইটে যেসকল ইউজাররা আপনাদের মত এড দেখে আয় করতে চায়, তাদেরকে বিভিন্ন টাস্ক পূরণ করলে তারা টাকা প্রদান করবে। ঐ গুলো বড় বড় কোম্পানির কাছ থেকে দেয়া  টাস্ক না বরং সেগুলো সিপিএ ধরনের এড। ঐ ওয়েব সাইটে বিভিন্ন টাস্ক পুরন করে নেয়ার মাধ্যমে অর্থ উপার্জন করবেন। সেটা হালাল হবে। 

কারণ এ সমস্ত টাস্কের মধ্যে আছেঃ তাদের ওয়েবসাইটে ভিজিট করা, কিংবা তাদের ওয়েবসাইটে সাইন আপ করা। আর ওসব বড় বড় কোম্পানির ওয়েবসাইটে অবৈধ কাজের প্রেক্ষাপট থাকে না। আর যদি সেখানে অবৈধ কাজের লেখালেখি কিংবা কনটেন্ট থাকে, তবে সেটি অবশ্যই হারাম হবে!


এড দেখে টাকা ইনকাম করা কি আসলেই হালাল?

আসলে এ নিয়ে প্রশ্ন করলে উত্তর দেয়াটা খুব কঠিন হয়ে যায়। প্রথমত বর্তমান সময়ে এড দেখে টাকা ইনকাম বলতে আমরা অনলাইনে আয় করাকেই বুঝি। বাস্তবে প্রতারণার শিকার হওয়া টা যত সহজ, অনলাইনে প্রতারণার শিকার হওয়া আরো বেশি সহজ। যার কারণে এরকম সুযোগ থাকে যে, অনলাইনে আয় করতে গিয়ে অর্থাৎ এড দেখে আয় করতে গিয়ে অনেকে প্রতারণার শিকার হতে হয়েছি।

আমি জানি, আপনি একজন বাংলাদেশী। যার কারণে আমার লেখা বাংলা ব্লগ পড়তে এসেছেন। আর আপনি যখন আয় করার ভাবনা চিন্তা করবেন, তবে অবশ্যই চাইবেন সে আয় যাতে বিকাশের মাধ্যমে নেয়া যায়। কারণ এই মেথডে নিলে আপনার কাছে টাকা আসতে সহজ হবে। আর বেশিরভাগ বিকাশে পেমেন্ট করে এরকম পিটিসি সাইট থাকে ফ্রড কিংবা ভুয়া।  এর মধ্য দিয়ে 100 জনের মধ্যে হয়তো ২০ জন কিংবা ৩০ জন প্রতারণার শিকার হবে না। কিন্তু বাকি 70 জনকে প্রতারণার শিকার হতে হবে।

সামগ্রিক প্রেক্ষাপট বিবেচনা করলে, আমার মতে বাংলাদেশে এড দেখে টাকা আয় করার ব্যাপারটি সম্পূর্ণ হারাম করে দেয়া উচিত। কারণ এটা করতে গিয়ে অনেক মানুষই প্রতারণার শিকার হচ্ছে। সেটি আমার নজরে পড়ছে।

যদি এরকমটা হয় যে, আপনি কোন একটি লেজিট ও খুব ভালো ব্র্যান্ডের পিটিসি সাইটে কাজ করে ইনকাম করছেন। তবে আপনাকে সাধুবাদ জানাই। আপনি চাইলে সেখানে এড দেখে আয় করা চালিয়ে যেতে পারেন। কারন ঐ সকল ওয়েবসাইটের আইডিয়ার সম্পূর্ণ পদ্ধতি অনেকটা ব্যবসা এর মত। আর আমরা জানি, ইসলামে ব্যবসা করা সম্পূর্ণ হালাল

তাছাড়া যে সকল পিটিসি সাইট ব্যক্তি উদ্যোগে তৈরি হয়। সেগুলোর ক্ষেত্রে যদি 40 ভাগ কাজ হারাম হয়। তবে বাকি ৬০ ভাগ  কাজে হবে হারাম। তার কারণ ব্যক্তি উদ্যোগে নিজে আয় করাটা এত কষ্টদায়ক হয়, আর তার ইউজারদেরকে উপার্জন দেয়াটা সম্পূর্ণই ন্যাকামি। কারণ বেশিরভাগ ব্যক্তি উদ্যোগের পিটিসি সাইট গুলোতে এডসেন্স ও এডমোব এড এর উপর নির্ভরশীল হয়ে আয় করার প্রসেস চালাতে হয়। নিজে ততটুকুই রাখতে পারে, যতটুকু আয় ইউজারদেরকে দিয়ে অবশিষ্ট থাকে।

আর একটি মজার বিষয় আছে। ঐ পিটিসি সাইটে ইউজাররা তখনই আসবে, যখন সেখান থেকে অনেক বেশি উপার্জন করা যায় কিংবা উপার্জন করা খুব সহজ হয়। সেদিক দিয়ে, এরকম নানা প্রতারণা কিংবা ফ্রড প্রমোটিং এর মাধ্যমে পিটিসি সাইটে ইউজাররা আসবে। পিটিসি সাইটের অথর নিজে এডসেন্স কিংবা এড মোব এড দেখে কত উপার্জন করবে তার গ্যারান্টি নেই। সেখানে প্রতারণামূলক প্রমোটিং করে অন্যান্য ইউজারদেরকে এনে তাদেরকে হতাশ করার মধ্য দিয়ে এক প্রকার অনৈতিক কাজ সাধন করা হবে। আমার মতে যা সম্পূর্ণ হারাম।


শেষকথাঃ

অতএব, যে সকল পিটিসি সাইট ব্যক্তি উদ্যোগের, একজন কিংবা কয়েকজন ব্যক্তিবর্গ অথোর হয়। তাদের থেকে অর্জিত উপার্জন নেয়ার ব্যাপারে সচেতন থাকা উচিত। আপনি কোন ফ্রড কিংবা প্রতারকের পিটিসি সাইটে কাজ করে শুধু শুধু সময় নষ্ট করতে পারেন না।

সবকিছু ভেবেচিন্তে, অ্যাড দেখে আয় করতে যাবেন। তাহলে তা হালাল হতে পারে। আশাকরি এই ব্লগের মধ্য দিয়ে উপযুক্ত উত্তর পেয়েছেন।

Naimul Islam

নাইমুল ইসলাম Expert Bangladesh এর Founder এবং Owner। সে অবসর সময়ে ব্লগিং ও লেখালেখি করতে ভালোবাসে। একইভাবে অনলাইনে নতুন কিছু শেখা তার প্রধান শখ।

Post a Comment

কমেন্ট করার মিনতি করছি। আমরা আপনার কমেন্টকে যথেস্ট মূল্য প্রদান করি। এটি আমাদের সার্ভিসের অংশ।

তবে কোনো ওয়েবসাইট লিংক প্রকাশ না করার অনুরোধ রইল।

Previous Post Next Post