ওয়েবসাইট খুলে কিভাবে টাকা আয় করা যায়?

হ্যাঁ, আমি সত্যি বলছি। আপনি চাইলে এখন থেকেই একটি ওয়েবসাইট খুলে টাকা আয় করা শুরু করতে পারেন। আজকের ব্লগে আমরা ওয়েবসাইট খোলা থেকে শুরু করে, ওয়েবসাইট খুলে কিভাবে টাকা আয় করা যায়? তা সম্বন্ধে বিস্তারিত জানব। কাজেই সম্পূর্ণ ব্লগটি পড়ে নিলে বেশি উপকৃত হবেন।

একটি ওয়েবসাইট মনিটাইজ করে তা থেকে আয় করা কোন প্রকার ধারণা নয়। এটাই সত্য ও বাস্তব।এমনকি আপনি যদি নিজের অবসর সময়, কিংবা শখের বশে একটি ওয়েবসাইট খোলে নেন। 


ওয়েবসাইট খুলে কিভাবে টাকা আয় করা যায়

কিছু সময় ধরে সেটাতে ক্রমাগত কাজ করে যান। তাহলে সেটা আপনার জন্য ইনকাম করার একটি বড় source হতে পারে। সেটা হতে পারে ইনকাম করার একটি অমূল্য সম্পদ। 

তবে তার জন্য অবশ্যই আপনার ভাল ভাগ্য, এমনকি কিছু সময়ের জন্য কঠোর পরিশ্রমের প্রয়োজন আছে। 

পরিশেষে, আপনি সে ওয়েবসাইট থেকে ভালো টাকা ইনকাম করতে পারবেন। এর পাশাপাশি সে ওয়েবসাইটে নিয়ন্ত্রণ করার জন্য কিছু খরচ বাবদ করতে হবে। 

বিশেষ করে ডোমেইন ও হোস্টিং ক্রয় করার ক্ষেত্রে খরচ পাতি হবে। যেটি ওয়েবসাইটকে চলমান রাখার জন্য অনেক বেশি দরকারি।

তাছাড়া আপনি চাইলে আপনার ইনকাম কে আরো বৃদ্ধি করাতে পারেন কিছু উপায় অবলম্বন করে। এ ব্যাপারে এ ব্লগেই গুরুত্বপূর্ণ টিপস পাবেন।

মনে রাখবেন, আজকের ব্লগে যে সকল টাকা ইনকাম করার উপায় আছে। অর্থাৎ একটি ওয়েবসাইট খুলে কিভাবে আয় করা যায়? তার সম্বন্ধে বলব। সেসব উপায় ভালো ইনকাম এর দিকে আপনাকে  অগ্রসর করবে।

এখানে প্রায়  টি মত টিপস আছে। যেগুলো আপনাকে গাইড দেয়ার জন্য উল্লেখ করেছি। কাজেই মনিটাইজেশন টিপসের পাশাপাশি Website Income বুস্ট করার জন্য এগুলো ব্যাপক প্রয়োজনীয় হবে।

যদি আপনি একটি ওয়েবসাইট তৈরি করার জন্য চিন্তা ভাবনা করেন। তাহলে এসমস্ত উপায় আপনার ইনকাম করার ব্যাপারে যথাযথ জ্ঞান প্রদান করবে।


ওয়েবসাইট খুলে কিভাবে টাকা আয় করা যায় তার ১০টি উপায়ঃ

হ্যাঁ, এইটা সঠিক যে, ওয়েবসাইট খুলে কিভাবে টাকা আয় করা যায় তা মোটেও সহজ নয়। তবে কিছু টিপস আছে। যেগুলো আয় করার সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে সম্ভাবনা দিবে।

1. এফিলিয়েট মার্কেটিং করুন। 

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং হলো ব্লগ কিংবা ওয়েবসাইট থেকে টাকা আয় করার সবচেয়ে জনপ্রিয় উপায়। একটি অ্যাফিলিয়েট ব্লগ অথবা ওয়েবসাইট কোন প্রোডাক্টে রিকমেন্ডেড করে তৈরি হয়।

দৈনন্দিন প্রয়োজনে বিভিন্ন পণ্যের রিভিউ লিখে কিংবা প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করে, ব্লগ তৈরি করতে পারে। এর সাথে সাদৃশ্য বিভিন্ন প্রোডাক্ট এর লিংক কানেক্ট করে দিতে পারেন। যাতে সে লিংক ব্যবহার করে কেউ এসে প্রোডাক্ট অথবা সার্ভিসটিতে purchase বা ক্রয় করে নেয়।

ওয়েবসাইটকে প্রমোট করার জন্য ভিজিটরদের থেকে ইমেইল সাবস্ক্রাইবার, সরাসরি সাবস্ক্রাইব নিতে পারেন। কোনো একটি প্রোডাক্ট অথবা সার্ভিস যদি লোকজনের সাথে মানানসই থাকে। তবে সেই এফিলিয়েট লিংক এ অবশ্যই ক্লিক করবে। এবং প্রোডাক্টটি বিক্রয় করে নেবে।

এখানে কমিশনের হার ওই অ্যাফিলিয়েট প্রোগ্রাম এর উপর নির্ভর করছে। প্রোডাক্ট অথবা সার্ভিসের 30 ভাগ থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ 70 ভাগ পর্যন্ত কমিশন পাবেন।

ধরুন, যদি কমিশনের হার 50% পান। তাহলে যদি 100 ডলার এর একটি বই বিক্রয় করিয়ে দিতে পারেন। তাহলে 50 ডলার আপনি কমিশন হিসেবে পাবেন, শুধু মাত্র ইউজারটি কে রেফার করার জন্য।


ওয়েবসাইট প্রমোট করানোর জন্য কোথায় প্রোডাক্ট পাব?

এখান থেকে সকল প্রোডাক্ট চাইলে ইউজারদেরকে অফার করতে পারেন। এমনকি এখান থেকে আফিলিয়েট লিংক কালেক্ট করতে পারেন। এখানে সরাসরি পেমেন্ট করা হয়।

ShareASale

এখানে বিশেষত কাপড়-চোপড়, সরঞ্জামাদি, বিভিন্ন অফলাইন সরঞ্জাম বিক্রয় করার অ্যাফিলিয়েট লিংক পাওয়া যায়। 

Clickbank – 

এখান থেকে উচ্চহারে পে-আউট নেয়া যায়। একাধিক বা অসংখ্য প্রোডাক্ট ও সরঞ্জাম রেপ্লেসমেন্ট নেয়া যায়।


2. “Pay Per Click” এডভার্টাইজিং করিয়ে আয়। 

Adword হলো এক ধরনের অ্যাডভার্টাইজমেন্ট,  যা গুগল সার্চ রেজাল্ট পেজ গুলোতে বিভিন্ন অ্যাডভার্টাইজমেন্ট শো করে।

গুগল এডসেন্স হলো একটি এড নেটওয়ার্ক, যেটি গুগলের নিজস্ব পণ্য। গুগোল এড শো করিয়ে সেখান থেকে ইনকাম করতে পারেন।

গুগল এডসেন্স এর সবচেয়ে ভালো দিক হল এখানে কাজ করা, এড চালিয়ে আয় করা খুবই সিম্পল।

একবার যদি গুগোল অ্যাডসেন্সে সাইন আপ করেন। এমনকি ওয়েবসাইটটি অ্যাপ্রভাল এর জন্য সাবমিট করেন। তবে গুগল কিছু সাধারন নিয়মকানুন দেখে, আপনার ওয়েবসাইট যাচাই করে, অ্যাপ্রভাল দিয়ে দিবে।

তারপর একটি simple অটো এড কোড আপনার ওয়েবসাইটের এইচটিএমএল এ সাবমিট করলেই গুগল অটোমেটিক অ্যান্ড রান করবে। এমনকি অটোমেটিক্যালি রেভিনিউ পাবেন। সম্পূর্ণটাই গুগোল নিয়ন্ত্রণ করবে।আপনাকে তেমন চিন্তা করতে হবে না।

আপনার ওয়েবসাইটে সাদৃশ্যপূর্ণ বিভিন্ন অ্যাড শো করাবে। যেটি আপনার কনটেন্ট এর সাথে মিলে যায়। অথবা কোন একটি ইউজার এর সার্চ রেজাল্ট এর থেকে হিস্টরি নিয়ে আপনার ওয়েবসাইটে ডিসপ্লে এড শো করাবে। যাতে করে এড এ ক্লিক এর পরিমাণ বেড়ে যায়। আপনার ইনকাম হয় বেশি।

তাছাড়া ধরুন আপনার ওয়েবসাইটটি হলো বিভিন্ন পোষা প্রাণীদের লালন-পালন, তাদেরকে নিয়ে। যেমনঃ বিড়াল, কুকুর ইত্যাদি। এখন গুগল এডসেন্স আপনার ওয়েবসাইটে অনেক ক্ষেত্রেই কুকুর-বিড়ালের বিভিন্ন খাবার,  কুকুর ট্রেনিং এসব নিয়ে এড শো করবে। 

এখানে কারো সাধারণ একটি ক্লিক থেকে টাকা ইনকাম হবে। মানে হল অ্যাডে ক্লিক করলে সেটা থেকে টাকা ইনকাম করা যাবে।

এখানে cpc বলে একটি ধারণা আছে। মানে হলো cost per click, এডে ক্লিকে কত টাকা পে করা হবে? যদি সেই CPC হয় 0.5 ডলার। আর এডে 3 টি ক্লিক পড়ে, তাহলে আপনি সেখান থেকে 1.50 ডলার ইনকাম করতে পারবেন।

তাছাড়া আপনার ওয়েবসাইট বা ব্লগ যদি ইংরেজি ভাষাতে হয়। এবং প্রতিদিন ১ হাজার ভিজিটর আসে, তবে সেখান থেকে খুব সহজে ২০ থেকে শুরু করে ৫০ ডলার ইনকাম করা যাবে। 

Google Adsense এ আবেদন করার নিয়মঃ

গুগল এডসেন্স এর ওয়েবসাইটে গিয়ে সরাসরি এপ্লাই করা যায়। আর সম্পূর্ণ বিষয়টি গুগল এডসেন্স এর ওয়েবসাইটে খুব সাধারণভাবে বলা আছে। 

আপনি সেখানে গিয়ে আপনার ওয়েব সাইট সাবমিট করে, জিমেইল এর মাধ্যমে সাইনআপ করতে পারবেন। তারপর একটি সাধারণ এড কোড আপনার ওয়েবসাইটের এইচটিএমএল এ সাবমিট করতে হবে। তাহলে সম্পূর্ণ প্রসেস সম্পন্ন হয়ে যাবে। 

তার আগে অবশ্যই গুগল এডসেন্স পলিসি গুলো ভালোভাবে পড়ে নিন। যাতে বুঝতে পারেন যে আপনার ওয়েবসাইট এডসেন্সের জন্যে প্রস্তুত কি না?


3. ওয়েবপেজের Ad Space বিক্রয় করে আয়।

corporating ওয়েবসাইটে এড স্পেস বিক্রয় করা অ্যাডসেন্স থেকে অনেকটাই আলাদা। গুগোল অ্যাডসেন্স হলো এডভার্টাইজিং পদ্ধতি। যেটি কোন ধরনের এড শো করাবে তার সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিবে। এবং আপনার ওয়েবসাইটে নিজের ইচ্ছামত এড শো করাবে।

গুগল এডসেন্স ছাড়াও আরেকটি সহজ উপায় হলোঃ আপনি বিভিন্ন কোম্পানি থেকে সরাসরি স্পন্সর ব্লগ, কিংবা এড স্পেস সাইটে বসাতে পারেন। এর জন্য আপনি একটি আলাদা বার অথবা অপশন নিয়ে রাখতে পারেন। যেখানে বিভিন্ন মূল্য সেট করবেন। যেমন ধরুন: “Sidebar banner ads will cost $100 per month”.

আপনার ওয়েবসাইটে একটি এড স্পেস কতক নিয়ে আসলো। তার ওপর ভিত্তি করে টাকা ইনকাম করার যাবে।

per one thousand impressions (or CPM). ডাইরেক্ট এড স্পেস সেল চালু করাতে যেভাবে পেমেন্ট করা হয়ঃ তাহলো প্রতি হাজার ভিউতে পেমেন্ট। মানে হল CPM(Cost Per Mile)। ধরুন যদি আপনার একটি এড স্পেসে সিপিএম 5 ডলার হয়। তবে ঐ এড স্পেসে প্রতি হাজার ভিউতে আপনি 5 ডলার পেমেন্ট পাবেন।

ধরুন, আপনার ওয়েবসাইটে এক লক্ষ ভিজিটর আসলো। অর্থাৎ page view হলো ১ লাখ / মাস। আপনি সেখান থেকে নিমিষেই 500 ডলার আয় করতে পারবেন।

এই ব্যানার এবং এড স্পেস সেল করার একটি ভালো দিক হলোঃ কত ইনকাম হবে তা কোথা থেকে ভিউ আসছে? তার উপর নির্ভর করে না। আপনি চাইলে সোশ্যাল সাইট থেকে ইচ্ছামতো ট্রাফিক রেফার করে নিজের ওয়েবসাইটে নিয়ে আসতে পারেন। বেশি ট্রাফিক হলে বেশি ইনকাম আসবে। 

কিন্তু গুগল এডসেন্স এর ব্যাপারটা অনেকটাই আলাদা। যদি এডে ক্লিক করে কম, তাহলে ইনকাম কম হবে। পাশাপাশি গুগোল অ্যাডসেন্সে ইনকাম পেজ ভিউ এর ওপর নির্ভর করে না। তাছাড়া গুগল অ্যাডসেন্স যেখান থেকে ভিউ আসবে তার উপর ভিত্তি করে ইনকাম দেয়। যেমনঃ গুগলের নিজস্ব অর্গানিক ভিজিটর আসলে, তবেই আপনি বেশি ইনকাম পাবেন।

ডিরেক্ট এড রান করার আরেকটি সুবিধা হল, নিজের ইচ্ছেমত রেট নির্ধারণ করতে পারবেন। একটি অ্যাড স্পেইস কত রেটে করবেন? কত পেমেন্ট নেবেন? তা গুগোল অ্যাডসেন্সে করা সম্ভব না।

তবে এড স্পেস নেয়ার জন্য আপনার ওয়েবসাইটে অনেক বেশি ট্রাফিক থাকা চাই। যার জন্য একটি কোম্পানী বা স্পনসর্ড কোম্পানিতে গিয়ে সহজেই একটি এড স্পেস পেয়ে যেতে পারেন। 

ওয়েবসাইট খুলে কিভাবে টাকা আয় করা যায় ডিরেক্ট এড ওয়েবসাইটে রান করিয়ে?  

BuySellAds 

– অনেক বেশি জনপ্রিয় একটি পরিবেশ, যা আপনাকে এই ধরনের কাজ করতে সহজে সুবিধা প্রদান করেন।


4. আপনার নিজের ডিজিটাল প্রোডাক্ট (যেমনঃ ই-বুক) বিক্রয় করুন।

নিজের ওয়েবসাইটে টাকা ইনকামের পরিমাণ আরও বাড়াতে, নিজস্ব ডিজিটাল প্রোডাক্ট বিক্রি করা শুরু করতে পারেন। আপনার নিজের একটি গ্রুপ থাকলে, নিজস্ব দলীয় কাজ হিসেবে কোন ম্যাগাজিন, অথবা এসব ডিজিটাল প্রোডাক্ট এর বিক্রয় শুরু করতে পারেন।

আমি ধরে নিলাম, আপনার ওয়েবসাইটে প্রতিমাসে 50 হাজার ভিউ আসে। তাহলে সে ট্রাফিক গুলোকে নিজের ওয়েবসাইটে ই-বুক ও Digital Products সেল করার ব্যাপারটিকে দেখাতে পারেন। যাতে তারা কোন একটি ডিজিটাল প্রোডাক্ট ক্রয় করে নিতে উদ্বুদ্ধ হয়।

ডিজিটাল প্রোডাক্ট এর মধ্যে রয়েছেঃ ই-বুক, কোর্স, টিউটোরিয়াল, পেইড ব্লগ, ইত্যাদি। আপনি যদি একজন ভালো ব্লগার হন। যে বিভিন্ন বিষয় ইউজারদেরকে খুব সহজে বুঝতে পারে। ইউজারদের আরো বেশি জ্ঞান দিতে সক্ষম। তাহলে নিজস্ব ব্লগ, টিউটোরিয়াল, কোর্স বিক্রয় করতে পারেন। নিজের ওয়েবসাইটে থেকেও এটি  করা যায়।

একটি ভালো ডিজিটাল প্রোডাক্ট তৈরি করার ব্যাপারে, অনেক বেশী সময় ও নিখুঁত কাজকর্মের প্রয়োজন আছে। যেমন ধরুনঃ ডিজাইন, কনটেন্টে কি কি শেখার বিষয় থাকে এরকম। 

তাছাড়া নিজের কোন প্রোডাক্ট যদি হয়, সেটি অফলাইন প্রোডাক্ট তবে সে ক্ষেত্রে কিছু বিশেষ কাজকর্ম রয়েছে। যেমনঃ পেমেন্ট গেটওয়ে, শিপিং এবং টেক্স। 

এ ধরনের ডিজিটাল প্রোডাক্ট বিক্রি করার জন্য আগে থেকেই কনটেন্ট মার্কেটিং এর প্রয়োজন আছে। যে কন্টেন্টে খুব সহজেই বুঝিয়ে দিতে পারেন যে, কিভাবে এই প্রোডাক্টটি ক্রয় করে নিলে ইউজাররা  বিভিন্ন কাজে সহায়তা পাবে।

এর জন্য অবশ্যই পেজটিকে ভালোমতো ডিজাইনেবল করতে হবে। তাছাড়া আপনার প্রোডাক্টের কদর আছে এবং ফলপ্রসূ আছে, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে।


5. ভিজিটিরদের থেকে Donations নিন।

চাইলে ভিজিটরদের থেকে ডোনেশন নিতে পারেন। যদি আপনার ওয়েবসাইটে লাখ লাখ  ভিজিটর না থাকে। অথচ ভালো ফলোয়ার, আপনার ওয়েবসাইটের সাথে engaged আছে এরকম কিছু ভিজিটর থাকে। তবে অবশ্যই ডোনেশন এর মাধ্যমে ভালো পরিমাণে উপার্জন হবে।

ডোনেশন গ্রহণ করা আপনাকে কিছুদিনের মধ্যেই ধনী করে দিতে পারবে না। তবে এটি কিন্তু সাময়িক সময়ের জন্য  ভালো ইনকাম করার পথ প্রশস্ত করবে।

ধরুন, আপনি একটি ইংরেজী ব্লগ সাইট তৈরি করলেন। বা ওয়েবসাইট তৈরি করলেন। সেখান থেকে পেপালের ডোনেট করার অপশন রেখে দিলেন। এবার পেপালে কিন্তু সরাসরি ডোনেট করার অপশন আছে।

সেখান থেকে যে কেউ চাইলে ডোনেট করতে পারেন। তার জন্য অবশ্যই আপনার একটি পেপাল একাউন্ট এর প্রয়োজন আছে। আপনার ভিজিটরের যদি আপনার সাথে অনেক বেশি ভালো সম্পর্কে জড়িয়ে থাকে। আপনার ব্লগ গুলো সব সময় পড়ে। কনভারসেশন রেট অনেক বেশিও থাকে। তবে অবশ্যই তারা আপনাকে ডোনেট করবে।

Donations বাটন সেট করে রাখতে পারেন। 


6. স্পন্সরড পোস্ট বিক্রয় করুন। 

স্পন্সর পোস্ট এবং আর্টিকেল অনলাইনে আয় করার একটি সাধারণ পদ্ধতি। এর জন্য একটি ওয়েব সাইট অথবা ব্লগ সাইট থাকা বাধ্যতামূলক।

ধরুন, কোনো ভাবে আপনি ওয়েবসাইটে ভালোমতো ট্রাফিক জোগাড় করতে পারলেন। প্রতিনিয়ত হাজার হাজার ভিজিটর আসছে।  তবে সেখান থেকে শুধুমাত্র এড শো করিয়ে কেন ইনকাম করবেন? 

যদি সাধারন একটি স্পনসর্ড পোস্ট লিখে দেন। এবং সেটাতে ভালো ভিজিটর আসে। অথবা গুগলের সার্চ ইঞ্জিনে র‍্যাংক করাতে পারেন। সেখান থেকে নিমিষেই কয়েকশো ডলার পর্যন্ত ইনকাম করা যায়।

স্পনসর্ড আর্টিকেলের সুবিধা হলোঃ 

যেখানে অন্যান্য আর্টিকেল, ভালো ভালো আর্টিকেলগুলোতে এড শো করালে কিছুটা হলেও ইউজার ফ্রেন্ডলি নষ্ট হয়ে যায়। সেখানে স্পন্সর পোস্টে কোন এড না বসিয়ে আপনি ইনকাম করাতে পারেন।

ধরুন, বিভিন্ন কোম্পানি তাদের সার্ভিস ও পণ্য বা প্রোডাক্টের রিভিউ দিয়ে ব্লগ বিভিন্ন ওয়েবসাইটে পাবলিশ করতে ইচ্ছুক। সে ব্লগ বা ওয়েবসাইটে যদি স্পন্সরড পোস্ট পাবলিশ করেন, তবে সেখান থেকে ইনকাম করা যাবে। 

ধরুন, আপনি আইফোন অথবা আইপ্যাডের বিভিন্ন গেমস নিয়ে একটি ব্লগ তৈরি করলেন। তাহলে ওই ব্লগ সাইটে বিভিন্ন গেম কোম্পানি গেম  রিভিউ করে পাবলিশ করতে ইচ্ছুক থাকবে। যাতে করে আপনার ফ্যান অথবা ভিজিটরদের কাছে তারা তাদের লেখা ঠিক পৌঁছে দিতে পারে। 

আর এইভাবে একটি স্পনসর্ড কন্টেন থেকে, তারা নির্দিষ্ট অংশ আপনাকে কমিশন হিসেবে দিবে।


7. অন্যান্য কোম্পানি দের বিভিন্ন তথ্য দিয়ে সাহায্য করুন।

ধরুন আপনার একটি ওয়েব সাইট আছে। যেখানে বিভিন্ন বিষয়ের উপর শিক্ষাবিষয়ক পোস্ট দেয়া হয়। মানে শিক্ষার নিশ নিয়ে একটি ওয়েবসাইট। সে ওয়েবসাইটে অবশ্যই বিভিন্ন ছাত্র-ছাত্রীরাই ভিজিট করতে আসবে। তাদের ইমেইল এড্রেস বিভিন্ন শিখনীয় ওয়েবসাইট অথবা, কোর্স সেল করার ওয়েবসাইটগুলোতে পাবলিশ করতে পারেন। 

সে ইমেইল লিস্ট, ফোন নাম্বার প্রয়োজনীয় তথ্য বিভিন্ন কোম্পানিতে দিলে, তা থেকে ব্যাপক মুনাফা ইনকাম করা যাবে। এ তথ্য সংগ্রহের ব্যাপারে ভিজিটরদের আগে থেকে জানান দিবেন। এর জন্য প্রাইভেসি ও পলিসি পেজে বিস্তারিত লিখে রাখবেন। 

বিভিন্ন অনলাইন স্কুল কিংবা কোর্স পাবলিশাররা ঐ সকল ইনফরমেশন পেয়ে অনেক উপকৃত হয়। কেননা তারা তাদের সার্ভিস প্রমোট করার জন্য ইমেইল গুলো কে ব্যবহার করে। আর এ সমস্ত ইমেইল লিস্টের একটি ভালো দিকঃ তারা নির্ধারিত অডিয়েন্স। 

এ ধরনের অফার কোথায় পাবো?

GlobalWide Media.


8. Email List তৈরি করুন।

ওয়েবসাইটের ফলোয়ারদের ইমেইল লিস্ট সংগ্রহ শুরু করুন। সে ইমেইল লিস্ট থার্ড পার্টি সাইটে সংগ্রহ করাতে পারলে সেখান থেকেও ভালো ইনকাম করা যায়। এর জন্য বিশ্বস্ত ওয়েবসাইট 

Listbuilding 101 ব্যবহার করতে পারেন। 


9. ই-কমার্স সাইট তৈরি করুন (কঠোর পরিশ্রমের প্রয়োজন আছে)।

উঠতি জনপ্রিয়তা পাওয়ার সাইটগুলো বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ই কমার্স ওয়েবসাইটে পরিণত হয়ে যায়। যেমনঃ সাধারন কোন ব্লগ সাইটে দেখবেন ব্লগপোস্ট সেল করার জন্য অর্থাৎ আর্টিকেল বিক্রয় করার একটি অপশন থাকে। যেটি আসলে একটি ই-কমার্স আর্টিকেল স্টোরের উদাহরণ। 

একইভাবে, আপনি চাইলে নিজের ওয়েবসাইটকে পাশাপাশি কমার্স ওয়েবসাইট এ পরিণত করতে পারেন। এতে করে নিজের প্রোডাক্ট, সার্ভিস সেল করা যেতে পারে। একটি ই-কমার্স ওয়েবসাইট তৈরি করার জন্য ওয়ার্ডপ্রেস প্লাগিন আছে। যেমনঃ WooCommerce,। পাশাপাশি  Shopify থেকে ইকমার্স সাইট তৈরির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ম্যাটেরিয়াল পাওয়া যায়।

বর্তমানে ইন্টারনেট দুনিয়ায় হাজার হাজার ইকমার্স ওয়েবসাইট বা অনলাইন স্টোর আছে। আপনার ই-কমার্স ওয়েবসাইট যদি সফলতা পেতে চায়, তবে কোন ইউনিক আইডিয়া লাগবে। খুবই ভালো কোনো পদ্ধতি অনুসরণ করে যেতে হবে। তাছাড়া নির্দিষ্ট মার্কেটিং স্ট্র্যাটেজিরও অনেক দরকার আছে।

কিভাবে একটি ভালো অনলাইন স্টোর/ শপ তৈরি করব?

প্রথমত woocommerce

 ওয়ার্ডপ্রেস প্লাগিন ব্যবহারে তৈরি করা যায়। এর জন্য ওয়ার্ডপ্রেসে ওয়েবসাইটটি তৈরি করতে হবে। আবার shopify ওয়েবসাইটের সহায়তায় এমন ই-কমার্স সাইট সহজেই তৈরি করা সম্ভব। 


10. ওয়েবসাইট বিক্রি করুন।ওয়েবসাইট খুলে কিভাবে টাকা আয় করা যায়?

আপনি চাইলে একটু ready-made সাইট তৈরি করে, সেটির ডিজাইনেবল look দিয়ে বিক্রি করতে পারেন। বিক্রি করার জন্য বাংলাদেশি বিভিন্ন জায়গা রয়েছে। যেমনঃ bwmshop.com এখানে ready-made website sell নিয়ে Gig প্রকাশ করুন, যে আপনি ভালো ডিজাইনের ওয়েবসাইট তৈরি করে বিক্রি করতে চাইছেন। 

এমনকি সেখানে নিজের বাজেট দিয়ে রাখুন। তাছাড়া ফাইবার অথবা বিভিন্ন ফ্রিল্যান্সিং ওয়েবসাইটে একজন ওয়েব ডেভেলপার, অথবা ওয়েবসাইট তৈরি করে ইনকাম করা যাবে।

পড়ুনঃ

তাছাড়া বর্তমানে গুগল এডসেন্স এর ওয়েবসাইটে খুব কদর আছে। যেকোন সাধারণ এডসেন্স এপ্রুভড ওয়েবসাইট আপনি ৮ থেকে ১০ হাজার টাকার ভিতরে সহজেই বিক্রি করতে পারবেন। 

নিজের তৈরি ওয়েবসাইট গুলো বিক্রি করে, আপনি মাসে অনায়াসে 1000 ডলার থেকে শুরু করে 5000 ডলার ইনকাম করে নিতে পারবেন।

আপনি ready made সাইট অনেক বিক্রি করে আয় করতে পারেন। রেডিমেড সাইট বিক্রি করে আয় করার জন্য কিছু ওয়েবসাইট আছে।

কোথায় সাইট বিক্রি করে আয় করবেন?

Flippa – সবচেয়ে বিখ্যাত ওয়েবসাইট মার্কেট। 

FEInternational – এখানে বেশিরভাগ ভাল ও উচু মানের ওয়েবসাইট বিক্রয় করা হয়। 

নিচে আরো ১৩ টি উপায় দেখানো হলো যেখানে সহজেই ওয়েবসাইট খুলে কিভাবে টাকা আয় করা যায়।


ওয়েবসাইট খুলে টাকা ইনকাম বৃদ্ধির আরো কতগুলো টিপস।

 11. text-link ads অথবা ব্যাকলিংক (NOT RECOMMENDED)  

text-link ads এ যথেষ্ট চাহিদা রয়েছে। তবে এটি গুগলের টার্মস অব সার্ভিসেস বিপরীতে। কাজেই কাউকে ব্যাকলিংক অথবা টেক্সট লিংক দেয়া থেকে অবশ্যই সচেতনতা অবলম্বন করবেন। মনে রাখবেন, কোন ওয়েবসাইট যদি ব্যাকলিংক নেয় তবে আপনাকে অবশ্যই পে করতে হবে।


12.  “Infolinks” সেট আপ করুন। 

 ইনফোলিংকস আসলে গুগল এডসেন্সের একটি অল্টারনেটিভ অ্যাডভার্টাইজমেন্ট। এটি খুব সহজে ওয়েবসাইটে এডজাস্ট করা যায়। আর সেখান থেকেও সহজেই পে আউট নেয়া যায়। এখানে হাই কোয়ালিটি অ্যাড লিংকিং করে দেয়া যায়। এতে এডসেন্সের সমস্যা হয় না।


13. আলাদা মনিটাইজেশন ফিচারের ব্যবহার  –

 আপনি চাইলে কোন মনিটাইজেশন ফিচার ব্যবহার করতে পারেন। নিজের ওয়েবসাইটে ডিরেক্ট এডভার্টাইজিং নিয়ে আসতে পারেন। বিভিন্ন ওয়েবসাইট অথর কিংবা ছোটখাটো ইকমার্স সাইটের ব্যবসায়ীরা আপনার ওয়েবসাইটে এড শো করাবে।

যদি আপনার ওয়েবসাইটে ভালোমতো ট্রাফিক থাকে, তবে এ পদ্ধতিতে মোটামুটি ইনকাম নেয়া যায়।


15. অতিরিক্ত টাকা ইনকামের জন্য প্রিমিয়াম কন্টেন্টের ব্যবহার ও সেল। 

– তাছাড়া নিজের ওয়েবসাইটে প্রিমিয়াম কন্টেন্ট ব্যবহার করা যায়। নিজের প্রিমিয়াম কনটেন্ট অবশ্যই মূল্যবান হতে হবে। ভিজিটিরের সাথে ওয়েবসাইটের এনজেজমেন্ট ভালো হলে তাহলে এটি কার্যকরী হবে।


17.  একটি job board তৈরি করে নিন – 

নিজের ওয়েবসাইটে একটি জব বোর্ড তৈরী করে নিলেও মন্দ হয়না। এতে করে বিভিন্ন ভিজিটরেরা জব যখনই সিলেক্ট করবে। অথবা সেখানে জয়েন করবে। তার পরিবর্তে সেই জব অথর ও কোম্পানি থেকে ভালো পরিমাণ ইনকাম নিতে পারেন। অবশ্যই সম্পূর্ণ প্রসেসে কমিশন কিংবা বাড়তি চার্জ যুক্ত দিয়ে রাখবেন।


19.  “hire me” পেজ তৈরি করে নিজের সার্ভিস প্রমোট।  

– আপনার নতুন ওয়েবসাইট টি অবশ্যই নিজের ফ্রিল্যান্সিং সার্ভিসগুলোর জন্য প্রমোট করার ভালো জায়গা। নিজের সার্ভিসগুলো প্রমোট করতে ভুলবেননা। এতে করে এক্সট্রা টাকা ইনকাম করার সুযোগ থাকবে।

20. অডিও এডস দেখান 

 – এই ফিচার এড করা যায়। তবে এটি অনেক বেশি নতুন। আর এই ফিচারের জনপ্রিয়তাও ধীরে ধীরে বাড়ছে।


21. ই-বুক বিক্রি করুন।

 – আপনি চাইলে নিজের অথবা অন্যের ই-বুক নিজের ওয়েবসাইটে শেয়ার করে টাকা আয় করতে পারেন। তার জন্য আলাদা কোনো ফিচার এড করে রাখবেন। যাতে করে সেই ইবুক সেল করার আলাদা ইন্টারফেস আসে। 

সেখান থেকে বিভিন্ন ইবুক বিক্রি করা শুরু করতে পারেন। নিজের ইবুক হলে ভালো ইনকাম করা যাবে।


22. একটি মেম্বারশিপ সাইট তৈরি করে নিন। 

– একটি মেম্বারশিপ ওয়েবসাইট তৈরি করলেও খারাপ হয়না। মেম্বারশিপ ওয়েবসাইটে থাকার জন্য, ঐ ওয়েব সাইটে নিয়মিত ভিজিট করার জন্য প্রেমিয়াম মেম্বারশিপ ক্রয় করে নিতে হবে। 

এর জন্য ভিজিটররা আপনাকে পে করবে। আর একটি মেম্বারশিপ ওয়েবসাইট থেকে অনেক সাজানো-গোছানো। আর অনেক বেশি ফিচারযুক্ত। পাশাপাশি সুবিধা পাওয়া যায় এমন সাইট হয়।


পরিশেষেঃ

একটি ওয়েবসাইট বর্তমান পরিস্থিতিতে সকলের জন্যই ইনকাম করার ভালো উৎস। কাজেই এ সুযোগকে কাজে না লাগানোর মতো ভুল করা উচিত নয়। একটি ওয়েবসাইট খোলার পরবর্তীতে নানা উপায়ে ইনকাম Generate করা যায়। কাজেই, সে দিক বিবেচনায় রেখে, অবশ্যই ভালো এই উপায়টিকে কাজে লাগানো উচিত। 

ওয়েবসাইট খোলে আয় করার ব্যাপারে অনেক লেখালেখি হলো। যদি ভালো লাগে তবে অবশ্যই শেয়ার করবেন। সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে শেষ করছি। 

পড়ুনঃ
Rakib

রাকিব "এক্সপার্ট বাংলাদেশ" এর প্রতিষ্ঠাতা এবং মালিক। সে অবসর সময়ে ব্লগিং ও লেখালেখি করতে ভালোবাসে। তাছাড়াও, অনলাইনে নতুন কিছু শেখা তার প্রধান শখ।

2 Comments

কমেন্ট করার মিনতি করছি। আমরা আপনার কমেন্টকে যথেস্ট মূল্য প্রদান করি। এটি আমাদের সার্ভিসের অংশ।

তবে কোনো ওয়েবসাইট লিংক প্রকাশ না করার অনুরোধ রইল।

  1. ভাইয়া অনেক ভালো লাগলো।অনেক পোস্ট পড়েছি তবে আপনার পোস্ট টি আমার কাছে অনেক হেল্পফুল মনে হলে।এগিয়ে যান ভাই।

    ReplyDelete
  2. অনেক ভালো লাগল।

    ReplyDelete
Previous Post Next Post