লম্বা হওয়ার উপায় ও ব্যায়াম সমূহ বিস্তারিত

লম্বা হওয়ার উপায় সমূহ ও ব্যায়াম করা নিয়ে আলোচনা।


লম্বা হওয়ার উপায় ও ব্যায়াম

পূর্বের ব্লগে আমি লিখেছিলাম, কত বছর পর্যন্ত লম্বা হওয়া যায়। আজকের ব্লগে আমরা আলোচনা করব, লম্বা হওয়ার উপায় সমূহ নিয়ে। যারা ১৮ বছরের নিচে তাদের জন্যই মূলত আমার ব্লগ। যারা ১৮ বছরেরও বেশি বয়সের, তাদের জন্য শীঘ্রই এ বিষয়ে নতুন ব্লগ নিয়ে আসবো।

পূর্বের ব্লগের মতো আজকেও আমি বাংলাদেশের নিজস্ব প্রেক্ষাপট নিয়েই আলোচনা করবো। ১৮ বছরের আগে যেকোনো কিশোরই একটু সচেতন হলেই নিজের উচ্চতা ধরে রাখতে পারে। একটু দায়িত্ব নিলেই ১৩-১৭ এ বয়সেই নিজের উচ্চতা বাড়িয়ে নিয়ে, ভবিষ্যতের জন্য নিজেকে স্মার্ট করে গড়ে তুলতে পারেন। আজকে থেকেই নিজের রুটিন পালটিয়ে ফেলতে পারেন। আমার কথামতো কাজ করে দেখে নিন, নিজের উচ্চতা বারে কিনা।

এ প্রসংগে আমি ছেলে-মেয়ে সবাইকে কিছু দরকারী পরামর্শ তো দিতেই পারি। তার আগে চলুন জেনে নিই, আমাদের দেশে উচ্চতার পরিমাণ কেমন

বর্তমান প্রেক্ষাপটে ছেলে-মেয়েরা যথেস্ট লম্বা। তার কারণ বোধ হয় এদেশের পুষ্টি চাহিদার যথাযথ পূরণ। একসময় বাংলাদেশ নিম্ন-আয়ের দেশ ছিল। যার ফলে ছেলে-মেয়েদের খাদ্য চাহিদা পূরণ অনেকাংশই কস্টসাধ্য ছিল। এখন দেশের খাদ্য চাহিদা পূরণ অনেকাংশ সম্ভব। তবে ধারণা করা হয়, আজ থেকে কয়েকশ বছর পর জেনেটিক্যালি ইভুলেশনের কারণে ছেলে-মেয়েদের উচ্চতা যথেস্ট হ্রাস পাবে। ঐদিকে নাই গেলাম।


লম্বা হওয়ার উপায় সমূহ কি কি?

দেহের শারীরিক কাঠামোর বৃদ্ধিকেই মূলত আমরা লম্বা হওয়া বলতে বোঝাই। লম্বা হওয়ার বেশিরভাগ চান্স থাকে আমাদের জিনে। মা-বাবা বা বংশের উচ্চতাকেই আমরা পরবর্তীতে লালন করি। তারপরও যদি অতিরিক্ত উচ্চতা বৃদ্ধি করতে চাই, তাহলে আমাদের কতগুলো উপায় মেনে চলা দরকার।

১। লম্বা হওয়ার খাবার

দেহের বৃদ্ধি ত্বরাণ্বিত করার জন্যই দরকার পুষ্টিকর খাবার। পুষ্টিকর খাবার দেহের গঠন বজায় রাখতে সাহায্য করে। এ সম্পুর্ণ কথাটি জেনে কারো মনে হতে পারে,”ভাই, আমি ভাত খাই, তরকারি খাই। ফলমূলও পাইলে খাই। এখন বাকী পুষ্টিটা আসলে কি?” একদম নরমাল। যা খান, তা খেতে পারেন। শুধু একটু পরিবর্তন আনা দরকার। কি রকম পরিবর্তন ? চলুন দেখে নেয়া যাক,

প্রথমত ১৩-১৮ এ বয়সটা বয়সন্ধিকাল। আমি ছেলেদের কথাটাই কিন্তু বলছি। এ বয়সে দেহের গঠন পরিপূর্ন হওয়াই প্রথম দরকার। তার জন্য আপনার দরকার প্রচুর আমিষ জাতীয় খাবার। ছোটো বেলায় সবাই পড়ে এসেছেন, আমিষ জাতীয় খাবার দেহের গঠন ও ক্ষয়পূরণে সাহায্য করে। এটা আপনি বয়সন্ধিকালে ঠিকই বেশি করে খাবেন। তবে, বৃদ্ধকালে আমিষের প্রয়ীজনীয়তা বেশি নেই। কারণ বেশি আমিষ খেলে আবার কিডনির উপর চাপ পড়ে তাই। কিন্তু আপনি ঠিকই খাবেন।

১। আমিষ জাতীয় খাবার কি কি?

অনেকেই বলবেন, এটা বলার কি দরকার? হ্যা দরকার আছে। অনেকেই ভাবেন মাছ, মাংসই হবে আমিষ। আপনি ডাল,ডিম,দুধ এগুলো খেয়েও আমিষের অভাব পূরণ করতে পারবেন। ডাল একদম সস্তা। যেকেউ যেকোনো ডাল জাতীয় খাবার খেয়ে আমিষের অভাব পূরণ করতে পারে। কিছুদিন আগেও মনে করা হতো প্রানিজ আমিষ বেশি দরকারী। না, এটা ভুল। উদ্ভিজ্জ আমিষেও প্রয়োজনীয় এসিড উপাদান গুলো আছে। মানে এমাইনো এসিড।

আমার পরামর্শঃ বেশি করে ডিম, দুধ খাওয়ার চেস্টা করুন।

এরপরে আসি, পরবর্তী ধাপে। কার্বোহাইড্রেট জাতীয় খাবার খাওয়া কমান। এটা দেহের উচ্চতা বৃদ্ধিতে অন্তরায় সৃষ্টি করে। কার্বোহাইড্রেট মানে শর্করা। কেউ কেউ বলবেন,”আপনি তো শর্করা খাবারেই স্ট্যাম্প লাগিয়ে দিয়েছেন, যেখানে আমাদের প্রধান খাবার শর্করা।“ বয়সন্ধিকালের কথা মাথায় রেখে একটু করুন। 

ভাত খাওয়ার পরিমাণ একটু কমান। এর পরিবর্তে বেশি করে তরকারী খান। তরকারীতে মানে শাক সবজিতে কিন্তু ভিটামিন থাকে। এখন আসি আসল কথায়। সেভেন আপ, স্প্রাইট, পেপসি এবং সবার প্রিয় কোকা কোলা খাওয়া বন্ধ করে দিন। এগুলোর দিন বয়সন্ধিকালে নেই। কারণ এগুলোতে যথেস্ট কার্বোহাইড্রেট থাকে।

ভিটামিন ডি

ভিটামিন ডি কে আমি এটলিস্ট আলাদা করে বলছি। য়াপনি রোদে গিয়ে খেলুন। সমস্যা নাই। সকালে বা বিকেলে খেলুন। খেলা ধুলা একধরনের ব্যায়াম। সাথে রোদের সংস্পর্শে এলে আরো ভালো। এটা ভিটামিন ডি এর অভাব পুরণ করবে। ভিটামিন ডি ও লম্বা হওয়ার ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখে। মাছের তেল, ভোজ্য তেল ,কলিজায়ও ভিটামিন ডি থাকে।

খনিজ লবন ও ভিটামিনঃ খনিজ লবণ ও ভিটামিনের সাধারণ উতস হলো শাক- সবজি। এরা আমাদের হরমোন নির্গমনে ও প্রডুউসে সহায়তা করে। শাক-সবজি মাস্ট! মানে অবশ্যই খেতে হবে। এটি লম্বা হওয়ার উপায় সমূহ এর মধ্যে অন্যতম।

২) লম্বা হওয়ার উপায় ও ব্যায়াম

ইন্টারনেটে উচ্চতা বৃদ্ধির উপায় নিয়ে কতগুলো আর্টিকেল পড়েছি। সেখানে এটা বলা আছে যে, কতগুলো নির্দিষ্ট ব্যায়াম করে উচ্চতা বাড়ানো যায়। কিন্তু কোন কোন ব্যায়াম সেগুলো বলে নাই। এটা অদ্ভুত। ব্যায়ামগুলো বিস্তারিত বলা আমার পক্ষেও সম্ভব না। তবে একটা অফলাইন এপ আছে। সেখানে ব্যায়ামগুলো কিভাবে করবেন তা একে দেখানো আছে। আর হ্যা, সেখানো ডেইলি কতক্ষণ কোন ব্যায়ামটা করবেন? তার পুরো রুটিন আপনাকে দেয়।

এমনকি এপটী আপনার জন্য টাইম ধরে রাখে, আর ব্যামায়টি দেখায়। আপনাকে ব্যায়ামটি করতে হবে। তাহলে তারা আপনার হিস্টোরি সেভ করে রাখবে। অসাধারণ অ্যাপ। আউটস্ট্যান্ডিং। ডাউনলোডসঃ ১০০ মিলিয়ন। 

আজকে আমরা লম্বা হওয়ার কার্যকরী উপায় গুলো সম্বন্ধে জানলাম। বাকী সবকিছু আপনার নিজের উপর নির্ভর করবে। দেখুন, আমাদের উচ্চতা হরমোনের উপর নির্ভর করে। আর হরমোন কতটুকু নির্গমন হবে, সেটা জেনেটিক্যালি সেট করা আছে। ভালো লাগলে আমার আরো কটা আর্টিকেল পড়ে আসুন।

Post a Comment

কমেন্ট করার মিনতি করছি। আমরা আপনার কমেন্টকে যথেস্ট মূল্য প্রদান করি। এটি আমাদের সার্ভিসের অংশ।

তবে কোনো ওয়েবসাইট লিংক প্রকাশ না করার অনুরোধ রইল।

Previous Post Next Post